সাক্ষাতকার
ঢাবির উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে অ্যালামনাই: মোল্লা কাওছার
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২২, ২০:৫১
ঢাবির উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে অ্যালামনাই: মোল্লা কাওছার
মহিউদ্দিন রাসেল ও সাইদুল কাদের
প্রিন্ট অ-অ+

অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার। দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে। এর আগে সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৯৭৯-৮০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক এই শিক্ষার্থী শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ১৯৮১-৮২ সেশনে হল সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং ১৯৮৩-৮৪ সেশনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯-৯০ সেশনে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)- এর সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।


সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নিজ কার্যালয়ে বিবার্তার সাথে একান্ত আলাপে অ্যালামনাইকে ঘিরে তার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাসেল এবং ঢাবি প্রতিনিধি সাইদুল কাদের।


বিবার্তা: গত ৪ জুন আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। আপনার অনুভূতি জানতে চাই?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: যেকোনো শুভ প্রাপ্তিতে ভালো অনুভূতি কাজ করে। যখন বিষয়টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে- সেখানে তো ভালো লাগাটা আরো প্রবল থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে। পূর্বে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদে ছিলাম, ডাকসুতেও ছিলাম। এরপর যখন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মতো গৌরবময় সংগঠনের দায়িত্ব পেয়েছি, তখন আমার অনুভূতিটারও ভিন্ন আশা করে সবাই। এক্ষেত্রে আমি বলবো, এটা অনুভূতির চেয়ে বড় দায়িত্ব পালনের বিষয়। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যারা সদস্য তারা কিন্তু দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। দেশের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এইরকম একটি সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে পেরে অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে নিজের মধ্যে। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন অ্যালামনাইয়ের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলাম। আমি সবসময় দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি। অ্যাসোসিয়েশনের সবাইকে নিয়ে অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে আমার ৷


বিবার্তা: আমাদের দেশের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং বাহিরের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। এর পেছনে কারণ কী?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: দেখুন, বিভিন্ন কাজের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে আমার। যেখানে গিয়েছি সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ঐখানে একেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে মনে হয়েছে যেন অ্যালামনাইদেরই সংসার। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যালামনাই কী? তাদের কাজ কী? অ্যালামনাইয়ের স্ট্যাটাস কী? এসব দিকে আমরা তেমন সচেতন না।


আমি অ্যালামনাইয়ের মহাসচিবের দায়িত্বে আসার আগেও সবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। যারা আমাদের অ্যালামনাই আছে, তারা যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষাসহ পরিবেশের মান উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে পারে, সেই বিষয়েও কাজ করছি।


আরেকটা বিষয় দেখুন, অ্যালামনাইয়ের সাথে যুক্ত সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা এবং ভালো ভালো পজিশনেও আছেন। তারা কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক কাজে আর্থিক সহায়তা করেন। আমাদের এই সংগঠন কিছু বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। সেইসব বিষয়ে আমার যথেষ্ট চিন্তাভাবনা আছে ৷ বিভিন্ন প্রস্তাব অনুযায়ী সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। দেশ-বিদেশের সকল অ্যালামনাইকে এক করার মধ্য দিয়ে একে সফর করতে হবে।


একইসাথে অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যে আমরা অ্যালামনাইকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।


বিবার্তা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যালামনাইয়ের সম্পৃক্ততা কেমন ?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: দেখুন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত অ্যালামনাই। এইদিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইকে কেন্দ্র করে তাঁর আলাদা সহানুভূতি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য তিনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে দেন। এজন্য আমরা অ্যালামনাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।



বিবার্তা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে এ মুহূর্তে আপনারা কী ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: আমরা তিন বছরব্যাপী একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছি। এরমধ্যে একটি কর্মসূচি হলো- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক্যম্পাস গড়ে তোলা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের সন্তান সন্ততিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের পদচারণা দেখা যায় এই ক্যাম্পাসে। কাজেই সবাইকে নিয়ে সবার সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের একটি কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানে ক্যম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি রাখা এবং তার যথাযথ ব্যবহার হবে। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন আমাদের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।


আরেকটা বিষয় দেখুন, আমরা যখন বিদেশে যাই, তখন ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলাকে অনিবার্য মনে করি। কিন্তু দেশে আসার সাথেসাথেই আমাদের সেই সচেতনতা থাকে না। তখন আমরা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলতে দ্বিধা করি না। পরিচ্ছন্নতার এই কাজগুলো বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেখানে পার্ট টাইম চাকরি দেয়ারও ব্যবস্থা করা হবে। যেহেতু আমরা শতভাগ শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের আওতায় আনতে পারছি না, সেহেতু কর্মের বিনিময়ে হলেও তাদেরকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করব।


ক্যাম্পাস সবুজায়নের জন্য এখানে শুধু গাছ লাগানোকে প্রধান্য দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গাছ লাগানো থেকে শুরু করে সেগুলো শিল্পিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে ট্রাফিক ব্যবস্থার যে সমস্যা, তা পুলিশের সহযোগিতায় সমাধান করার চেষ্টা করবো। অভ্যন্তরীণ এই ট্রাফিক ব্যবস্থাটিতে শিক্ষার্থীদের ফাস্ট প্রায়োরিটি দেয়া হবে।


বিবার্তা: ঢাবি অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেয়া হচ্ছে। এর কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলুন?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: ঢাবি অ্যালামনাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে স্কলারশিপ চালু করেছে। তবে ইদানিং আমরা একটা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছি। যেসব শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেয়া হয়, তাদের সাথে একরকম চুক্তি করার উদ্যোগ নিচ্ছি। ঐ শিক্ষার্থীরা যখন সর্বশেষ স্কলারশিপ পাবে, ততদিনে তাদের পড়াশুনা শেষ হয়ে যাবে। তারপর সে চারবছর পরে অন্য এক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করে সে কোনো না কোনো কর্মে যুক্ত হতে পারেন। ফলে আমরা উপরোক্ত আশা তাদের কাছ থেকে করতেই পারি। তারা মাসে পাঁচ হাজার দিতে না পারলেও, আড়াই হাজার টাকা তো দিতে পারবে।



বিবার্তা: বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে আপনারা কী ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যালামনাইদের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) এমওইউ করা হবে। তাদের সাথে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে মত-বিনিময় করলে নতুন নতুন আইডিয়া আসবে। এতে করে অনেক অজানা তথ্য সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষণা দুর্বলতা রয়েছে, তাতেও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি ৷ বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো, গবেষণা দুর্বলতা। যদি পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারদের আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনভাইট করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেকচার দেয়া যায়, তাহলে তা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।


বিবার্তা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) কেন্দ্রিক আপনাদের কোনো কর্মসূচি আছে কি-না?


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: পূর্বে টিএসসিতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ এমাউন্ট অ্যালামনাই খরচ করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেখানে যেসব সাউন্ড সিস্টেম দেয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না। সাউন্ড সিস্টেম বাহির থেকে ভাড়া করে আনা হয়। টিএসসিতে যে সর্বাধুনিক ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অ্যালামনাইয়ের উদ্যোগে। তবে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যাচ্ছে। মোটকথা, আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। তাহলে আমরা পরিচ্ছন্ন-সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে পারবো। এছাড়াও টিএসসিকে ঘিরে আমাদের আরো বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে।


বিবার্তা: বিবার্তার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।


মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার: আপনাদের দুজনকেও ধন্যবাদ।


বিবার্তা/সাইদুল-রাসেল/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com