সাক্ষাতকার
‘কোনো একটি পরিবহন বন্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়’
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২২, ১৯:১৭
‘কোনো একটি পরিবহন বন্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়’
মো.তাওহিদুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

সড়কে শৃঙ্খলা, অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ না করে কেবল কোনো একটি পরিবহন বন্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে। সড়কে ফুটপাত তৈরি করে তা পথচারীদের ব্যবহারে বাধ্য করা, রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং ব্যাবহার, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে।


চালকের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ, ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।


এছাড়া মোটর সাইকেলসহ ছোট এবং ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন ব্যবস্থা করা, গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া। আরোহীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা, সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ভালো ফল পাওয়া যাবে।


ঈদুল আযহার আগে মহাসড়কে মোটরসাইকেল বন্ধ করা, সড়কে শৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক মো. তাওহিদুল ইসলাম।


বিবার্তা: বিগত যেকোনো সরকারের থেকে বর্তমান সরকারের আমলে সড়ক পথ বেশি উন্নত হয়েছে। এরপরও কেনো দুর্ঘটনা থামছে না?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: বর্তমান সরকারের সময়ে সড়কের অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সড়ক প্রশস্ত হয়েছে। দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত হয়েছে। অনেক সড়কে বাঁক সরলীকরণ করা হয়েছে। ফলে যানবাহনের গতি বেড়েছে। কিন্তু জাতীয় মহাসড়ক করিডোর ভিত্তিক না হওয়ায় ফিডার রোড থেকে দ্রুত যানবাহন উঠে এসে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এছাড়াও পথচারীদের জন্য ফুটপাত না থাকা, ফুটপাত বেদখল এবং বেপরোয়াভাবে পথচারীদের পারাপারের কারণেও প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।


বিবার্তা: ঈদুল আযহার ঠিক আগ মুহূর্তে মহাসড়কে বৈধ মোটরসাইকেল বন্ধ করে দিল। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠছিল। বাইকাররা বলছে, গণপরিবহন মালিকদের যোগসাজশে এমন হয়েছে। আপনি কী মনে করেন?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমাদের দেশে স্বাভাবিক সময়েও আমরা গণপরিবহনের সংকট লক্ষ্য করি। দুই ঈদে এই সংকট বহু গুণে বেড়ে যায়। এই সময়ে সড়কের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এক সাথে ৩৭ লাখ মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করায় গণপরিবহন সংকট আরো তীব্র হয়েছে। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে বাস মালিকরা ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চালিয়েছেন। সংখ্যার দিক থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বেশি হওয়ায় এই বাহনের দুর্ঘটনার হারও অনেক বেশি। তবে গণপরিবহনের যাত্রী সেবার মানোন্নয়ন, সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে মোটরসাইকেলের উপর নির্ভরশীলতা কমানো উচিত। ঈদে হঠাৎ করে মোটরসাইকেল বন্ধ করা উচিত হয়নি।


বিবার্তা: মোটরসাইকেল বন্ধ রাখার পরেও ঈদুল আযহায় সড়ক পথে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় কী?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: সড়কে শৃঙ্খলা, অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ না করে কেবল কোনো একটি পরিবহন বন্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলসহ ছোট এবং ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন ব্যবস্থা করা, গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া, আরোহীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা, সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ভালো ফল পাওয়া যাবে।


বিবার্তা: বৈধ মোটরসাইকেল বন্ধ করার যৌক্তিকতা কতটুকু বলে মনে করেন?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমি মনে করি বৈধভাবে নিবন্ধিত এবং পরিচালিত মোটরসাইকেল বন্ধ করার সুযোগ নেই। বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


বিবার্তা:সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আপনারা কী ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি সামাজিক সংগঠন। আমরা সামাজিক সচেতনতা, সরকারের উপর চাপ তৈরি, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল করতে তাদের উপর চাপ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছি। এছাড়াও সরকারের নীতি সহায়তার জায়গায় আমার জনবান্ধব নীতি গ্রহণে সহায়তা করি।


বিবার্তা: কী কী পদক্ষেপ নিলে পরে সড়ক দুর্ঘটনার নামে হত্যাকাণ্ড কমবে বলে আপনি করেন?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বুয়েটের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে সড়কে প্রাণহানীর ৫০ শতাংশ পথচারীর মৃত্যু হচ্ছে। তাই আমরা মনে করি সড়কে ফুটপাত তৈরি করে তা পথচারীদের ব্যবহারে বাধ্য করা, রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চালকের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।


বিবার্তা: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট দফতর বা প্রতিষ্ঠানের সাথে কি আপনাদের সমন্বয় আছে?


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং করি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের কমিটিগুলোতে কাজ করছি। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের চাপ অব্যাহত রাখছি।


বিবার্তা: মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য বিবার্তার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।


মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ।


বিবার্তা/তাওহিদ/রোমেল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com