সাক্ষাতকার
নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নই বুয়েটকে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছে : ড. আব্দুল জব্বার খাঁন
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২২, ২১:৫৪
নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নই বুয়েটকে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছে : ড. আব্দুল জব্বার খাঁন
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি না দিলে শুধু বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) না, বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে থাকবে। কেননা, ওয়েবসাইট হচ্ছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়না। এটাকে টিভি চ্যানেলও বলা যায়। আপনি কী করছেন, সেটা তো ওয়েবসাইটে থাকতে হবে। আমাদের ওয়েবসাইটগুলো আগে কিন্তু আপডেটেড ছিল না, তথ্য ছিল না। এখন এগুলোর সব নিয়মিত যাচ্ছে। যার ফলে এখন যারা আমাদের অ্যাসেস করছেন, তারা এগুলো পাচ্ছেন। আমাদের একাডেমিক কী কী আছে, তারা দেখছেন। ফলে তারা আমাদের মার্কিং করতে পারছেন। আর এভাবেই আমরা যুক্তরাজ্যভিত্তিক কিউএস র‍্যাংকিংয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে বিশ্বে ১৮৫তম স্থান অর্জন করেছি। অথচ এর আগের বছরও একই র‍্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান ছিল ৩৪৭তম। নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।


কথাগুলো বলছিলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই অধ্যাপক এর আগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে পাঁচ বছর সাংবিধানিক দায়িত্বে ছিলেন। তিনি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় নবম এবং ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন। এরপর বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ১৯৯২ সালে প্রভাষক হিসেবে নিজ বিভাগে যোগ দেন। কমনওয়েলথ স্কলারশিপে স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব স্ট্রাথক্লাইড থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯৯ সালে দেশে ফিরে আবারও বুয়েটে যোগদান করেন। তিনি পদ্মা সেতু, হাতিরঝিল এবং মেট্রোরেল প্রকল্পসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে জিওটেকনিক্যাল পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।


বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশলী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার কারণ এবং বুয়েটের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে উন্নতি হওয়ার নানা বিষয় নিয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের মুখোমুখি হয়েছেন। তার দফতরে গিয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাসেল।


বিবার্তা: কিউএস র‍্যাংকিংয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে বিশ্বে ১৮৫তম স্থান অর্জন করেছে বুয়েট। অথচ এর আগের বছরও একই র‍্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল ৩৪৭তম। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ের সূচকগুলোতে উন্নতি করার জন্য বুয়েট বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যেগুলো খুবই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এজন্য আমরা গতবারের চেয়ে ১৬২ ধাপ এগিয়ে ১৮৫তম স্থান অর্জন করেছি। একাডেমিক মান উন্নতি সূচকে বুয়েটের স্কোর ছিল ৭২, যা গতবারের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বেশি। নিয়োগের মান উন্নয়নে স্কোর ছিল ৯০, গতবারের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট বেশি। প্রকাশনায় উন্নতি সূচকে বুয়েটের স্কোর ছিল ৭০, গতবারের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেশি। এইচ ইনডেক্স সূচকে ৬১, গতবারের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেশি। আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক (আইআরএন) সূচকে বুয়েট স্কোর করেছে ৩৬। সব মিলিয়ে বুয়েটের স্কোর হয়েছে ৭২ দশমিক ৫। এটি গতবারের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেশি। এর ফলেই বুয়েটের র‍্যাংকিং ১৬২ ধাপ এগিয়েছে।


বিবার্তা: আন্তর্জাতিক সূচকগুলোতে বুয়েটের পয়েন্ট বাড়ানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল?


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: নানা ধরনের পদক্ষেপই নেয়া হয়েছিল। কোভিডের সময়ে বুয়েট অনলাইনসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে সক্ষম হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের বুয়েটের নিজস্ব ফান্ড থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জামাদি কেনার জন্য সুদবিহীন লোন (প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা) দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি-ও মওকুফ করা হয়েছিল। এসব উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে করোনার মূল দুই বছর সময়ের মধ্যে বুয়েট তিনটি টার্ম শেষ করতে পেরেছে। সাধারণত বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে দুই বছরে সাড়ে তিন টার্মের বেশি সম্পন্ন করা যায় না। করোনার কারণে সশরীরে খাতা পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। তাই বুয়েটের নিজস্ব উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনস্ক্রিন খাতা মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কোভিডের মধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো চ্যালেঞ্জ থাকলেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেটিও আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।


এছাড়া বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের সূচক দেখে সেই অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটকে তথ্যবহুল করা হয়েছে। এখানে এখন শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত, প্রকাশনা, গবেষণার ক্ষেত্র ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।


বিবার্তা : গবেষণার মান উন্নয়ন ও বৃদ্ধির জন্য আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন ?


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: দেখুন, কোভিডের সময়ও আমরা বসে থাকিনি। তিনটা ফ্যাকাল্টিও খুললাম। এমনকি আমাদের রিসার্চ ও ইনোভেশনকে আরো বৃদ্ধি করার জন্য ‘রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে নতুন সেন্টার খুললাম। এছাড়া আমরা কিন্তু রিসার্চ গ্র্যান্ডও করলাম। অর্থাৎ এই রিসার্চ সেন্টারের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষকরা যদি কোনো বড় ধরনের রিসার্চ করতে চান, আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে তাদের অনুদান দিচ্ছি। রিসার্চের টপিক সেন্টারে জমা দিলে তারা অ্যাসেস করে দেখেন। রিসার্চের জন্য একজন শিক্ষক ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পেতে পারেন। আমরা গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের জন্য রিসার্চ সেন্টারে ২ কোটি টাকা ছেড়ে দিয়েছি। চাইলে এটা দিয়ে ১০টা রিসার্চও চলতে পারে।


আবার ২ কোটি টাকার মধ্যে ১০ টার বেশিও হতে পারে। ২০ লাখ টাকা তো একেকটার সর্বোচ্চ। ১০ লাখ টাকা করে যদি যায় তাহলে ২০টা রিসার্চও হতে পারে। বুয়েটকে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যালার্মিদের সাথে আরো বেশি সংযুক্ত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির সাথে গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাদের সাইন হচ্ছে।


শুধু তাই নয়, আমাদের শিক্ষকদের পাবলিকেশনে উৎসাহিত করতে আমরা কোয়ালিটি পাবলিকেশনে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বলছি যে, কিউ ওয়ান র‍্যাংক জার্নাল হতে হবে। জার্নালের বিভিন্ন র‍্যাংকিং আছে। কোনো শিক্ষক যদি কিউ ওয়ান পাবলিকেশন পাবলিশড করেন তাহলে তাকে প্রত্যেক পাবলিকেশন বাবদ আমরা দেড় লক্ষ টাকা পুরস্কার দিচ্ছি। অনেকে আছেন যারা ৩/৪ টা করে পাবলিকেশন করেছেন। তাদেরকে প্রত্যেকটার জন্য দেড় লক্ষ টাকা হিসেব করে দেয়া হচ্ছে। আগে শিক্ষকরা নিজের উৎসাহে রিসার্চ করলেও একটা সময় হয়তো মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু এখন আবার তারা রিসার্চে ফিরে আসছেন। এই কারণে এখন পাবলিকেশনে আমাদের নম্বর বেড়েছে। সামনে এই পাবলিকেশন আরো বাড়বে, সেই ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।



বিবার্তা : বুয়েটের নিজস্ব রিসার্চ ফান্ড রয়েছে। সে সম্পর্কে যদি একটু বলতেন?


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: আমরা বুয়েটে বেসিক রিসার্চ ফান্ড করেছি। যেখান থেকে আমাদের আন্ডারে থাকা শিক্ষার্থীরা কোনো কনফারেন্সে যাবে, তার রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় বিষয় দেখা হচ্ছে। আর এগুলো না দিলে তো রিসার্চ হবে না। ফলে সেটার জন্য আমরা টাকা দিচ্ছি। এর আওতায় অধ্যাপকরা পাবেন তিন লাখ টাকা করে, সহযোগী অধ্যাপকরা পাবেন দুই লাখ টাকা করে।


আমাদের বুয়েটের নিজস্ব আয় অর্থাৎ বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে আমাদের যে আয় হয়, সেখান থেকে আমি আর আমাদের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার স্যার 'বুয়েট রিসার্চ ফান্ড' নামে এটা গঠন করলাম। এটা সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব টাকায়। এখানে ১৩ কোটি টাকার একটা ফান্ড জেনারেট করেছি। এখান থেকে আমরা পিএইচডি ফেলোশিপ দিচ্ছি, যেটা বুয়েটে আগে ছিল না। এখানে একজন শিক্ষার্থী যখন ফুলটাইম কাজ করবে, তখন আমরা তাকে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা করে দেবো। তিন বছরের জন্য হবে এটা। শিক্ষার্থীরা রিসার্চ করবে, সাথে বেতনও পাবে। তবে এক্ষেত্রে তাকে ফুলটাইম শিক্ষার্থী হতে হবে, ঘুরে বেড়ালে চলবে না। অন্য চাকরি করবে, এখানেও পার্টটাইম করতে চাইবে তাকে এটা দেওয়া হবে না।


ঠিক একইসাথে আমরা মাস্টার্স ফেলোশিপ দিচ্ছি প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে। ১৮ মাস তাদের কার্যকাল থাকবে।


এদিকে, ফরেন শিক্ষার্থী অ্যাট্রাকশনের একটা বিষয় আছে, সেখানেও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতি ফরেন শিক্ষার্থীকে ৩০ হাজার টাকা করে দেবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা শুরুও করা হয়েছে। ৪০ জন শিক্ষার্থীকে আমরা মাস্টার্স ফেলোশিপ দিয়েছি। ১০ জন শিক্ষার্থীকে পিএইচডি ফেলোশিপ দিচ্ছি।


বিবার্তা : বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের জন্য বিদেশি ছাত্র-শিক্ষক একটা সূচকও থাকে। এর উন্নয়নে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: ভিজিটিং ফরেন প্রফেসরের জন্য র‍্যাংকিংয়ের পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। ওই পয়েন্টগুলোও আমরা এখন টেনে আনার চেষ্টা করছি। বিদেশি প্রফেসরদের থাকা-খাওয়া সব হসপিট্যালিটি আমাদের। তাদেরকে সম্মানিও আমরা দেবো। তবে তাদেরকে আমাদের সাথে থাকতে হবে। আমাদের একাডেমিক কাউন্সিল থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফিন্যান্স কমিটি থেকেও সেটাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে আর্থিক বিষয় রয়েছে, সেহেতু এটাকে সিন্ডিকেট অনুমোদন করবে। পরবর্তী সময় থেকে এটা কার্যকর হয়ে যাবে। আমাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু বিষয়ভিত্তিক র‍্যাংকিং নয়, বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবো।


এছাড়া আমরা যোগ করলাম আডটকাম বেইজড এডুকেশন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি পড়াচ্ছেন, আপনার আউটপুট কী সেটা দেখতে হবে। শতভাগ প্রোডাক্ট রেডি ইউনিভার্সিটি বের করতে পারে না। এটা তাদের কাজের মধ্যেও পড়ে না। মোটামুটি বাজারে গিয়ে সে যেন কাজ শুরু করতে পারে, সেই ধরনের উদ্যোগ আমাদের আছে। আমাদের ক্লাসরুমগুলোকে আরো স্মার্ট ও ডিজিটাল ক্লাসরুমে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য আছে।


বিবার্তা: সরকারের উদ্দেশ্যে বিশেষ কোনো মেসেজ দিতে চান কিনা?


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: আমরা সরকারকে বলেছি, আমাদের রিসার্চের বাজেট বাড়াতে। আমরা চাই যে, আমাদের এখানে প্রতি বছর ৫০ কোটি টাকার রিসার্চ হোক। আর এই টাকাটা আমরা সরকারের কাছ থেকে চেয়েছি। আমরা বলেছি, আমাদের রিসার্চের বাজেট ৩ কোটি ৪০ লাখের জায়গায় ৫০ কোটি করেন, তাহলে আমাদের রিসার্চের অগ্রগতি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই ৫০ কোটি থেকে আমরা ফেলোশিপ দেবো, বড় বড় রিসার্চ করবো, যেগুলো আমরা এখন নিজস্ব ফান্ড থেকে করছি। আমরা নিজস্ব ফান্ড থেকে করলে তো এটা সাসটেইনেবল হবে না। কিন্তু রেভিনিউ বাজেটে টাকাটা আসলে সেটা খুবই সাসটেইনেবল হবে। এই বিষয়টি আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি।


তবে আমরা একটা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সাবমিট করেছি। সেটা এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আছে। এটা ২৫০০ কোটি টাকার একটা ডিপিপি। এখানে আমরা ঘর বাড়ি রাস্তা-ঘাট কিছুই চাইনি। আমরা চেয়েছি আমাদের বিদ্যমান গবেষণাগুলোর অধিকতর উন্নয়ন, ল্যাবরেটরিকে আপডেটেড করা। আপডেটেড ল্যাবরেটরি ছাড়া রিসার্চে বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবো না। এই ডিপিপির ৭৬ শতাংশ হচ্ছে শুধু ল্যাবরেটরির জন্য। এটা আশা করি অনুমোদন হয়ে যাবে। আমাদের ইউনিভার্সিটির সবাই মিলে কাজ করছি। আমরা টোটাল একটা মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আগাচ্ছি। আমরা সরকারকেও বলেছি, টোটাল ন্যাশনাল একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান থাকা দরকার। আপনি আসলেই কতজন প্রকৌশলী তৈরি করতে চান, তাদের মধ্যে কতজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হবে, কতজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবে, দেশের ডিমান্ড কী, প্রজেকশন কী, পরবর্তী ৫ বছরের প্রজেকশন কী, তারপরে কী- সেভাবেই তো আমাদের ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট বের করতে হবে।


আমরা নতুন নতুন ইউনিভার্সিটি করছি, পাবলিক-প্রাইভেট সবই হচ্ছে, যার যার ইচ্ছে মতো ডিপার্টমেন্ট খুলে ছাত্রসংখ্যা ঠিক করা হচ্ছে অর্থাৎ যে যার ইচ্ছে মতো চলছি। এটা কোনো পলিসি হতে পারে না। এই জায়গাটায় আমাদের থামতে হবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যেটা বলছেন যে, গ্র্যাজুয়েট কতজন তৈরি করবেন এটা ঠিক করতে হবে। অনির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট কিন্তু আমরা তৈরি করতে পারি না। এটা করলে আবাসিক হলেও জায়গা হবে না, কর্মক্ষেত্রেও জায়গা হবে না। ফলে র‍্যাংকিংয়েরও অবনতি হবে।


বিবার্তা: বিবার্তাকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।


ড. আব্দুল জব্বার খাঁন: আপনাকেও ধন্যবাদ।


বিবার্তা/রাসেল/রোমেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com