কুয়েতে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত বেড়ে ৪৯
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪, ২৩:০১
কুয়েতে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত বেড়ে ৪৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কুয়েতের দক্ষিণ আহমেদি গভর্নরেটের মানগাফ শহরে শ্রমিকদের একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।


১২ জুন, বুধবার সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।


স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে মানগাফ শহরের ছয়তলা ভবনের একটি রান্নাঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়।


মেজর জেনারেল ইদ রাশেদ হামাদের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় আগুন লাগার খবর জানতে পারেন তারা।


“যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সেটি শ্রমিকদের জন্য ব্যবহৃত হতো এবং সেখানে অনেক শ্রমিক ছিলেন। অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে,” একজন সিনিয়র পুলিশ কমান্ডার দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিকে এ কথা বলেছেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহদ আল ইউসেফ এটিকে "সত্যিকারের বিপর্যয়" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেজর জেনারেল ইদ রশিদের মতে, অগ্নিনির্বাপক ও ফরেনসিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।


আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।


এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে।


দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন যেখানে আগুনে দগ্ধদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই রাষ্ট্রদূত লেখেন, একটি হাসপাতালে ৩০ জনের বেশি ভারতীয়কে ভর্তি করা হয়েছে। ওই হাসপাতালে অন্তত ৪৭ দগ্ধ চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


কুয়েতের আগুন নিয়ে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে বলা হয়, কুয়েতের আগুনে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালাসহ বেশ কয়েক রাজ্যের বাসিন্দা মারা গেছে। ভারতের একটি সংস্থা বলছে, নিহতদের মধ্যে ৪১ জন ভারতীয়, যার মধ্যে ১১ জন কেরেলার। তবে, বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।


এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ। এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য বাড়ির মালিককে দুষছেন তিনি।


তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনা আবাসন ব্যবসায়ীর লোভে ফল কি না তা দেখা হচ্ছে। ভবন নির্মাণে যদি কোনো অনিয়ম হয় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ভালো চাকরির আশায় উপসাগরীয় দেশটিতে ভিড় করে মানুষেরা। খরচ কমাতে স্বল্প বেতনে শ্রমিকেরা প্রায়শ জনাকীর্ণ ভবনগুলোতে থাকে। আর আগুন লাগা ভবনটিতে সেরকম শ্রমিকেরাই থাকতো। নিহতেরা কি ধরণের কাজ করতো তা প্রকাশ করেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।


ওই ভবনে বাস করা একজন মিসরীয় আগুন থেকে প্রাণে বেঁচেছেন। গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করা ওই ব্যক্তি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, নিচ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। ভবনের ওপরের তলায় থাকারা এ জন্য ভবন থেকে বের হতে পারেনি। একইসঙ্গে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় গোটা ভবন।


বিবার্তা/লিমন

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com