গৌরব ও ঐতিহ্যে ১০১তম বর্ষ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২২, ১৫:৫১
গৌরব ও ঐতিহ্যে ১০১তম বর্ষ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সাইদুল কাদের
প্রিন্ট অ-অ+

মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বাঙালি জাতির জাগরণ ও ন্যায়-অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আগামী ১লা জুলাই ১০১তম বর্ষ পেরিয়ে ১০২তম বর্ষে পা দিতে যাচ্ছে।


আগামীকাল পহেলা জুলাই, শুক্রবার ১০২তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্ষপূর্তি উদযাপন এবং গবেষণা-প্রকাশনা মেলা আয়োজন উপলক্ষ্যে গত ১২ জুন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০২তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং গবেষণা প্রকাশনা মেলা আয়োজনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।


এই বর্ষপূর্তির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতাকে সামনে রেখে ১ জুলাই, শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরুর কথা বলা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিনদিন ব্যাপী ‘গবেষণা-প্রকাশনা মেলা’ উদ্বোধন করা ও ঐদিন সকাল সাড়ে ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন: ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।


এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে ১ জুলা্ই, শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ১০২তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং গবেষণা প্রকাশনা মেলা উদ্বোধন করবেন। ১ জুলাইথেকে ৩ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন দিনব্যাপী এই মেলায় অনুষদসমূহের জন্য ১০টি এবং ইনস্টিটিউটসমূহের জন্য ১টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। মেলায় গবেষণা প্রকাশনা সংক্রান্ত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও সাইডলাইন ইভেন্ট থাকবে।


এছাড়াও ১ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন: ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয় এক বিজ্ঞপ্তিতে।


ইতোমধ্যে ঘোণাকৃত কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ক্যাম্পসের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন একাডেমি ও প্রশাসনিক ভবনে আলোকসজ্জা ও আবাসিক হলগুলোতে আলোকসজ্জা করতে দেখা গেছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) তেও লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


ঘোষণাকৃত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বিবার্তাকে বলেন, "যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে ওগুলো বাস্তবায়ন করতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। দুইভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তা সকলের জামায়াতে কেক কাটা হবে। সেখান থেকে র‍্যালি হয়ে টিএসসির দিকে যাত্রা করবে। এরপর ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন: ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।"


এছাড়াও তিনদিনব্যাপী গবেষণা মেলার ব্যাপারে গোলাম রাব্বানী বলেন, বন্যা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও করোনা পরিস্থিতির উর্ধ্বগতি হওয়ার কারণে এই কর্মসূচির দিন পিছানো হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসের ২২ ও ২৩ কে সম্ভাব্য তারিখ হিসবে দুইদিনব্যাপী এ কর্মসূচি করা হবে বলে জানান তিনি।


উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করার কথা থাকলেও চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সশরীরে কোনো অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি ক্যাম্পাসে। তবে অনলাইনে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। পরে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডিসেম্বর মাসে ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘শতবর্ষর আলোয় আলোকিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ বিষয়কে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়।


ঢাবি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস


১৯১২ সালের ৩০ জানুয়ারি পূর্ব বাংলায় উচ্চশিক্ষার আলো জ্বালাতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখের নেতৃত্বাধীন একটি দল।তিনদিন পর ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন লর্ড হার্ডিঞ্জ।


একই বছরের মে মাসে স্যার রবার্ট নাথানিয়েলের নেতৃত্বে গঠিত ১৩ সদস্যের নাথান কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিলে ডিসেম্বর মাসে তা অনুমোদন পায়।পরে ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও এ ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেয়। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভা `ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন (অ্যাক্ট নং ১৩) ১৯২০ পাস করে।


১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, তিনটি আবাসিক হল, ৬০ জন শিক্ষক ও ৮৭৭ শিক্ষার্থীকে নিয়ে।


বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৪টি গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যুরো, ২০টি আবাসিক হল ও তিনটি হোস্টেল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৯৬ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা এক হাজার ৯৯৯ জন।


৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে এর জমির পরিমাণ ২৭৫.০৮৩ একর।


বিবার্তা/সাইদুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com