দুর্নীতিবাজ ও যৌননিপীড়ক আক্কাস আলীর বহিস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২২, ২২:৫৭
দুর্নীতিবাজ ও যৌননিপীড়ক আক্কাস আলীর বহিস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আক্কাছ আলীকে চাকরি থেকে স্থায়ী অব্যাহতি প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।


রবিবার (২৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা দুর্নীতি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করে বিভাগটির সাবেক সভাপতি জনাব আক্কাস আলীর বিরূদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।


এর আগে, ২০১৮ সালের এপ্রিলে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির জেরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আট সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিলো বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান আক্কাছ আলীকে।


জানা যায়, দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ছাড়াও একধিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন আক্কাছ আলী। আক্কাছ আলীর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ উভয়ই ছিলো নিয়ম বহির্ভূতভাবে। এমনকি তিনি নিজে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নিজেই মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়ে বশেমুরবিপ্রবির সিএসই বিভাগ থেকে তার মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগও।


এসকল অনিয়ম এবং অভিযোগ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে ২০১৯ এর ২১ নভেম্বর ফের ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এরপর ২ বছরের অধিক সময় পার হলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এখনও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে কিন্তু এমন কিছু বিপথগামী শিক্ষকদের জন্যই আজ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই বিপথগামী শিক্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত যাতে আর কখনোই এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।


মানববন্ধনে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আদিব মুহাইমিন বলেন, আক্কাস আলীর নিয়োগ নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে। একাডেমিক দুর্নীতি, সেই সাথে মার্ক টেম্পারিং এর সাথেও যুক্ত তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেন এমনকি তার মানসিক নির্যাতনের ফলে অর্ঘ বিশ্বাস নামক এক শিক্ষার্থী আত্মহননের মত সিদ্ধান্ত নিয়ে মারা যান। তাছাড়াও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ও প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে। এমন একজন ঘৃণীত ব্যক্তিকে আমরা কিভাবে শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারি। আমরা তার স্থায়ীভাবে বহিষ্কার চাই এবং যেসকল শিক্ষার্থীদের মার্ক টেম্পারিং করা হয়েছে তাদের খাতার পুনঃমূল্যায়ন চাই।


উল্লেখ্য, গত ২১ জুন তারিখ হতে টানা ৬ষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলনের মাধ্যমে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।


বিবার্তা/অহনা/এসএফ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com