প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হুজি নেতা আব্দুল হাই গ্রেফতার
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২২, ১৫:১১
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হুজি নেতা আব্দুল হাই গ্রেফতার
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বহুল আলোচিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এবং একাধিক মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) প্রতিষ্ঠাতা আমীর মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।


বুধবার (২৫ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা হাজীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রাজধানীর কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।


তিনি জানান, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জনসভা চলাকালীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মুফতি আব্দুল হাই সেই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলো। সেই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ জনকে হত্যা করে। সেই মামলায় চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি ছিলো আব্দুল হাই। তার বিরুদ্ধে সাতটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেফতারকৃত মুফতি আব্দুল হাই “জাগো মুজাহিদ”নামের একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। পত্রিকাটি ১৯৯১ সালে চালু হয় এবং তার অফিস খিলগাঁও থানাধীন তালতলা নামক স্থানে। পরবর্তীতে ২০০০ সালে সরকার পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করে। গ্রেফতারকৃত মুফতি আব্দুল হাই ২০০০ সালে ওই পত্রিকার অফিস থেকেই গ্রেফতার হয় এবং দুই মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পায়।


জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি জানায়, সে নারায়গঞ্জ জেলার দেওভোগ মাদ্রাসায় ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত হেফজ বিভাগে পড়ালেখা করে। এরপর ১৯৮১ সালে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায় লেখাপড়ার জন্য ভর্তি হয়। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দেওবন্দে পড়ালেখা করে মাস্টার্স সমতুল্য দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে। এরপর দেওবন্দ থেকে ১৯৮৫ সালের শেষে ওই দেশের নাগরিক হিসাবে একটি পাসপোর্ট তৈরি করে পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিক হিসাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং ১৯৮৬ সালে পুনরায় ওই দেশে প্রত্যাবর্তন করে। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাকিস্তানি ভিসা নিয়ে ট্রেন যোগে পাকিস্তানের করাচিতে গমন করে সেখানকার একটি মাদ্রাসা থেকে ২ বছরের ইফতা কোর্স সম্পন্ন করে মুফতি টাইটেল অর্জন করে।


১৯৮৯ সালে ওই মাদ্রাসায় একাধিক বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি মিরানশাহ বর্ডার দিয়ে আফগানিস্থানে মুজাহিদ হিসাবে গমন করে। সেখানে বাংলাদেশের কয়েকজন জঙ্গি সদস্য ও ৩০/৩৫ জন পাকিস্তানি নাগরিক একত্রিত হয়ে একটি ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি এক হুজি নেতা এবং বাংলাদেশি এক জঙ্গির নেতৃত্বে অক ৪৭ রাইফেল ও থ্রি নট থ্রি রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে আফগানিস্তানে গমন করে তাদের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করে। ১৯৯১ সালে সে বাংলাদেশে ফিরে আসে।


উল্লেখ্য যে, আফগানিস্তানে থাকাকালীন “হুজি-বি” অর্থাৎ “হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশ” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। যার আমীর নির্বাচিত হয় গ্রেফতারকৃত মুফতি আব্দুল হাই। পরবর্তীতে মুফতি আব্দুল হাই আমীর হিসাবেই বাংলাদেশে আসে এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে হরকাতুল জিহাদ নামে প্রচারণা শুরু করে। এরপর ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে গ্রেফতারকৃত আব্দুল হাই কক্সবাজারের উখিয়ার একটি মাদ্রাসায় যায় এবং সেখানে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প চালু করে। পার্শ্ববর্তী দেশের এক জঙ্গি নেতা ওই ট্রেনিং ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহ করত এবং গ্রেফতারকৃত মুফতি আব্দুল হাই ও তার দুই সহযোগী সেখানে প্রশিক্ষণ প্রদান করত। ওই স্থানে তারা ৪ বছর অবস্থান করে এবং কৌশলে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। অতঃপর ১৯৯৬ সালে যৌথবাহিনীর অভিযানে ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।


বিবার্তা/তাওহিদ/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com