উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগ
তালায় গোপালপুর আম বাগানে হতে যাচ্ছে ইকোপার্ক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৭, ১২:৪৩
তালায় গোপালপুর আম বাগানে হতে যাচ্ছে ইকোপার্ক
সেলিম হায়দার, তালা
প্রিন্ট অ-অ+

চারপাশে বাগান আর বাগান। ঝোপঝাড়ের মধ্যে রয়েছে চারটি পুরাতন ভবন। সামনে রয়েছে আমবাগান। এরমধ্যে একটি দ্বিতল ভবন একেবারেই নাজুক। অন্য তিনটি ধংস্বস্তূপ। এসব ভবন ও বাগানটি দীর্ঘদিন ছিল পরিত্যাক্ত অবস্থায়। এ বাড়ি এবং বাগানটি বলাই বাবুর আমবাগান নামে পরিচিত এলাকায়।


তবে দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা বাবুর বাড়ি ও আমবাগানটি তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেনের উদ্যোগে হতে চলেছে ইকো পার্ক ও মিনি স্টেডিয়াম। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধায়নে কাজ শুরু হয়েছে সেখানে।


ইসলামকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুভাষ সেন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন পরিদর্শন করে ইকো পার্ক ও মিনি স্টেডিয়াম বাস্তবায়নের জন্য উৎসাহিত করেন। নির্দেশনা ও পরামর্শে কাজ শুরু হলে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বাবুর আমবাগানটি পরিদর্শন করেন। সর্বশ্রেণীর মানুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।


সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত এটি। বলাই ঘোষ ও অবলাকান্ত ঘোষের ছিল এ বাগান-বাড়িটি। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তারা ইসলামকাটি ইউনিয়নের রাজা ছিলেন। তবে ১৯৭১ সালে এ দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান তারা। সেই থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল তাদের বাসস্থান ও সামনের আমবাগানটি। প্রায় ৯ একর জমির উপর বসতবাড়ি ও সামনে প্রায় ১০ একর জমিতে রয়েছে বাগান। তারা ভারতে চলে যাওয়ায় ওই জমি সব বাংলাদেশ সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।


সোমবার সরেজমিনে গোপালপুর আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, একটি স্কেবেটর (মাটি কাটা মেশিন) মাটি কেটে উঁচু-নিচু সমানের কাজ করছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সীমানা বরাবর ড্রেন কাটার কাজও চলমান রয়েছে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করছে সাতজন শ্রমিক। নাজুক ভবনটির একপাশে সুজিত মজুমদার আরেক পাশে রফিকুল ইসলাম পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে। এছাড়াও বাগানের পাশ দিয়ে আরও ১২টি পরিবার ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে।


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাবুরা ভারতে চলে যাওয়ার পর, যে যার মতো দখলে নেয়ার চেষ্টা করে আসছে তাদের জমি ও বসতবাড়ি। অনেকে ওই জমি ইজারা নিতে আগেই দখলে নিয়েছে। বর্তমানে ইজারা বন্ধ থাকলেও তারা দখল ছাড়েনি এখনও। এরমধ্যে উপজেলা প্রশাসন পার্ক ও মিনি স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করেছে।



উপজেলার ঘোনা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। তিনি তার পরিবার নিয়ে বর্তমানে গোপালপুর গ্রামে বাবুর আমবাগানে বসবাস করেন। কিভাবে বসবাস করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বাবুর বাড়িতে কাজ করতাম। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে আমরা এখানে বসবাস করে আসছি। তবে আমাদের এখনও তেমন কোন কাগজপত্র হয়নি।’ এমন বক্তব্য ওখানে বসবাসকারী আমজাদ, আজিজুলসহ চারজনের।


বাবুদের বসতঘরে বসবাসকারী সুজিত মজুমদার জানান, ‘আমি ১৯৭৪ সাল থেকে সরকারের কাছে থেকে এক সনা ইজারা নিয়ে বসবাস করে আসছি। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকারের কাছে থেকে তার ইজারা নেয়া আছে। চলতি বছর ইকোপার্ক ও স্টেডিয়াম করার জন্য সরকার তাদের কোন ইজারা দেয়নি।’ তবে তিনি সেখানে এখনও বসবাস করছেন।


ইসলামকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুভাষ সেন বলেন,‘উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে ইকোপার্ক ও মিনি ষ্টেডিয়ামের কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধায়নে কাজ এগিয়ে চলছে।’


তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন জানান, উপজেলায় কোন বিনোদন পার্ক নেই। নেই মানুষের বিনোদনের কোন জায়গা । বাবুর আমবাগানটি যে যার মতো দখলে নেয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন, ‘কমিশনার স্যারের নির্দেশনা ও ডিসি স্যারের পরামর্শে বাবুর আমবাগান ও বসতবাড়িতে ইকোপার্ক ও মিনি স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করেছি।’


তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইউএনও সাহেব একদিন আমাকে বলেছিলেন। আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এরপর আমার সাথে বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলেনি।


খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ বলেন, প্রতিটি উপজেলায় বিনোদন পার্ক তৈরি করার নির্দেশনা আছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখানে অবৈধ দখলদার বা কেউ বাধা দিলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লূৎফুল্লাহ বলেন, বিনোদন পার্ক ও মিনি স্টেডিয়াম করার এমন উদ্যোগ নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই। সাথে সাথে দ্রুত কাজটি বাস্তবায়নের জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।


বিবার্তা/সেলিম/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com