রাজধানীতে সমাজ সচেতনতায় সুচিন্তা’র জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৩:০৮
রাজধানীতে সমাজ সচেতনতায় সুচিন্তা’র জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

‘জাগো তারুণ্য রুখো জঙ্গিবাদ’ শিরোনামে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নিয়মিত জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমের এবারের সেমিনারটি আয়োজন করা হয়েছিল রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে। প্রায় দুই বছর ধরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সেমিনার করে আসছে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন।


এবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. সেলিম মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এবং অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য।


মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইউনিভার্সিটি উইমেনস্ ফেডারেশন কলেজের উপাধাক্ষ্য আইনুন নাহার তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। জঙ্গিবাদের ফলে ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে। তারা যে ইসলামের কত বড় শত্রু তা আমাদের বোঝা দরকার। ইসলামে বলা হয়েছে, সেই প্রকৃত মুসলমান যার কাছে অন্য ধর্মের মানুষের জান-মাল নিরাপদ থাকে।



শিক্ষার্থীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ।


জঙ্গিবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ হচ্ছে একটি পশ্চিমা ষড়যন্ত্র। ইসলামের নামে যারা জঙ্গি হচ্ছে তারা নিজেদের ধংস করা ছাড়া আর কিছুই করছে না। ইসলামের কোথাও বলা হয়নি মানুষ হত্যা করতে। তারা যে আত্মঘাতী হয়ে সুইসাইডাল অ্যাটাক করছে সরাসরি জান্নাতের যাওয়ার আশায় এটা বড় ভুল ও মহাপাপ। কারণ ইসলামে বলা হয়েছে আত্মহত্যা মহাপাপ।


আফগানিস্থান, ইরাক, সিরিয়ার মতো মুসলিম দেশ ধ্বংসের দিকে চলে গেল জঙ্গিবাদের কারণে। এর পেছনে একটিম হলের স্বার্থ রয়েছে। কর্পোরেট বা ব্যবসায়িক স্বার্থ। যুদ্ধ লাগলে অস্ত্র বিক্রি হবে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মুসলিম দেশগুলোর অনেকে বিপুল পরিমানে অস্ত্র কিনছে। লাভবান হচ্ছে অস্ত্র বিক্রয়কারী দেশগুলো। এই বাজার যারা তৈরী করেছে লাভ তাদের ঘরেই যাচ্ছে।


তিনি আরো বলেন, মানুষকে অনেকভাবেই মোটিভেটেড করা যায়। মানুষ কখনও নিজেই অস্ত্র হয়ে ওঠে আবার কখনও বা ফুল। নাইন ইলেভেনের সময় যে ছেলেরা আক্রমণ করেছিল তাদের সবাইকে টেনিং দেয়া হয়েছিল মোটিভেটেড করা হয়েছিল আত্মঘাতী হয়ে উঠতে। মনে রাখতে হবে জীবন একটাই, মানুষ একবারই পৃথিবীতে আসে। তাই নিজের প্রতি, নিজের পরিবারের প্রতি, চারপাশের মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের কিছু দায়িত্ব আছে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়াতে হবে প্রত্যেককে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।


তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সফলতার সাথে এদেশ থেকে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নিমূর্ল করেছে। যে চেতনার উপর ভড় করে এদেশে জঙ্গিবাদ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল সেই চেতনাকে রুখতে এবং এর ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সামাজিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন যে কাজ করে যাচ্ছে সে জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের উচিত এই ধরণের সামজিক সচেতনতায় অংশ নেয়া। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।


সুচিন্তা’র গবেষণা সেলেরপক্ষ থেকে আশরাফুল আলম শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদ সমর্থন-অসমর্থন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আজসারাবেলা’র সম্পাদক জব্বার হোসেন।


বিবার্তা/রবিউল/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com