ডিএনসিসিতে ৯১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ১৬:৫৯
ডিএনসিসিতে ৯১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনে শনিবার (৪ জুলাই) মোট ১২ হাজার ৬১৯টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৯১ টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮ হাজার ৭৬৪ টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এসময়ে ১২টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যান্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।


শনিবার সকালে উত্তরা অঞ্চল-১ এর অধীনে মোট ৬৭২ টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ২টি মামলায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৫২০টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। সেখানে ১০টি বাড়িকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।


মিরপুর অঞ্চল-২ এর অধীনে মোট ২ হাজার ৬১৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া যায় এবং ১ হাজার ৩০৯টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭টি মামলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


মহাখালী, অঞ্চল-৩ এর অধীনে মোট ১ হাজার ৫৩০টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩১ টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৯৫০টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।


মিরপুর ১০, অঞ্চল-৪ এর অধীনে মোট ১ হাজার ৬০৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৯টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ১ হাজার ১৭১টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।


কারওয়ান বাজার, অঞ্চল-৫ এর অধীনে মোট ২ হাজার ১৯টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ১২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এসময়ে ৩টি মামলায় মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি খালি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের ভেতরে লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৫৮২টি বাড়ি/ স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। সেসব স্থানে কীটনাশক ছিটানো হয়েছে।


হরিরামপুর, অঞ্চল-৬ এর অধীনে মোট ১ হাজার ৪৩৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ হাজার ১৩১টি বাড়ি/ স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।


দক্ষিণখান অঞ্চল-৭ এর অধীনে মোট ৯৩৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২ টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৭৯৫টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।


উত্তরখান অঞ্চল-৮ এর অধীনে মোট ৭৫৩ টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তবে ৪৮২ টি বাড়ি/ স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।


ভাটারা অঞ্চল-৯ এর অধীনে মোট ৪৮৬টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬৪টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।


সাঁতারকুল অঞ্চল-১০ এর অধীনে মোট ৫৬৬টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৪৬০টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। উল্লিখিত সকল সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজন স্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এবিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


দ্বিতীয় ধাপে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে এবারও প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের ১টি সেক্টরে অর্থ্যাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। চিরুনি অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ৬জন চিকিৎসক, ৯ জন কীটতত্ববিদ, ডিএনসিসির ৩ জন কীটতত্ববিদ এবং ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ।


উল্লেখ্য, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশকনিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিশেষ কয়কটি পর্যায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের (চিরুনি অভিযান) সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ৬ থেকে ১৫ জুন প্রথম পর্যায়ের সফল চিরুনি অভিযান সম্পন্ন হয়। শনিবার (৪ জুলাই) থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযানের প্রথম দিন।


তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান সফল করতে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৮টায় মেয়র মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ডিএনসিসির সকল বিভাগীয় প্রধান, সিনিয়র কর্মকর্তা ও কীটতত্ত্ববিদগণ অংশগ্রহণ করেন।



ডিএনসিসি মেয়র এবার চিরুনি অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত আরো জোরদার করার নির্দেশ প্রদান করেন। যেসব ক্ষেত্রে ভবন বা স্থাপনার মালিক পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা করা হবে। এছাড়াও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে শিগগিরই সমন্বিত মশক নিধন ব্যবস্থাপনা বা আইভিএম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে যার মাধ্যমে সারাবছরের মশক নিধন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। এছাড়াও ৭ জুলাই থেকে গৃহস্থালি বর্জ্যের সাথে সংক্রামক বর্জ্য পাওয়া গেলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বিবেচনায় সেখানেও জরিমানা করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য পৃথকীকরণেরদীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা সেটি বাস্তবায়ন শুরু হবে।


বিবার্তা/খলিল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com