দক্ষিণখানে ত্রিপল মার্ডার: মাঠে একাধিক টিম
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৩
দক্ষিণখানে ত্রিপল মার্ডার: মাঠে একাধিক টিম
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর দক্ষিণখানে মা ও দুই শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী রকিব উদ্দিনকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেফতার করতে মাঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাটিক টিম কাজ করছে।


জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণখান থানার প্রেমবাগান রোডস্থ কেসি স্কুলের পেছনের ৮৩৮ নম্বর বাসায় তিনটি লাশের খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।


পরে ঘটনাস্থল থেকে বিটিসিএলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিব উদ্দিনের স্ত্রী মুন্নী বেগম (৩৭), তাদের ছেলে ফারহান ভুঁইয়া (১২) ও মেয়ে লাইবা ভূঁইয়ার (৪) লাশ উদ্ধার করা হয়।


ঘটনার পর থেকে রকিব উদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তাদের হত্যা করে তিনি পালিয়ে গেছেন।
শনিবার তিনজনের ময়না তদন্ত শেষে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক একে এম মাইনুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, লাশ তিনটির উপরিভাগ বেশি পচনশীল ছিল। নারীর মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়াও দুটি শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।


তিনি আরো জানান, লাশ তিনটি থেকে ভিসেরা ও রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে। তবে আলামত দেখে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একজনই ঘটিয়েছে।


এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকূট উদ্ধার করেছে। এতে রকিব উদ্দিন হত্যার কারণ লিখে গেছেন। তবে ওই চিরকূটের সূত্র ধরেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।


১২ ফেব্রয়ারি লেখা ওই চিরকূটে নিজেকে ‘নিকৃষ্ট লোক’ হিসেবে তুলে ধরে দুই সন্তান ও স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। এছাড়াও তার লাশ রেললাইনে পাওয়া যাবে বলেও ওই চিরকূটে উল্লেখ আছে।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে চিরকূটে লেখা পলাতক রকিব উদ্দিনের। এছাড়াও গত বুধবার বিকেলে রকিব উদ্দিন তার এক সহকর্মীর সাথে সর্বশেষ কথা বলেন। তখন তিনি বলেন বৃহস্পতিবার তিনি অফিসে যাবেন না। এটাই ছিল রকিবের শেষ কথা। এর পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে।


এদিকে, চিরকূটের সূত্র ধরে রেলওয়ে পুলিশকে রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত লাশের সন্ধান পাওয়া গেলে বিষয়টি দক্ষিণখান থানা পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।


কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি রকিব উল হোসেন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা সচেতন রয়েছেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে রেললাইনের কাটা পড়া কোনো মৃত বা আহত ব্যক্তির খবর পাওয়া যায়নি। এমন খবর পাওয়া গেলে দক্ষিণখান থানা পুলিশকে জানানো হবে।


মুন্নী রহমানের চাচাতো ভাই মামুনুর রশীদ বাবু সাংবাদিকদের জানান, আর্থিক চাপে পড়ে এমন ঘটনা হয়তো ঘটিয়েছেন নিহতের স্বামী রকিব উদ্দিন। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, তাদের হত্যার আগে একটি নোট লিখে গেছেন নিখোঁজ রকিক উদ্দিন। সেখানে তিনি লিখেছেন, তার পরিবার যেন কারো ওপর বোঝা না হয় এজন্য তাদের তিনি হত্যা করেছেন। নিখোঁজ রকিব উদ্দিনকে কোনো এক রেল লাইনের পাশে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাবে বলে লিখে রেখে গেছেন।


ডিএমপির উত্তরা ডিভিশনের এডিসি হাফিজুর রহমান বলেন, নিহত নারীর আত্মীয়-স্বজনের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। নিহত নারীর স্বামীকে পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।


তিনি আরো জানান, পলাতক রকিব উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।


তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্গন্ধযুক্ত লাশ। দুর্গন্ধ পাওয়ার পর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। তিনজনই হত্যার শিকার বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তিন-চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাব- ১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল জানান, রকিব উদ্দিনকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ওই এলাকায় দেখা গেছে। এরপর থেকে তাকে আর ওই এলাকায় দেখা যায়নি। এমনকি এরপর পর থেকে তার ফোনও বন্ধ রয়েছে।


তিনি আরো জানান, রকিব উদ্দিনের ঋণের পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা। কোনোভাবেই তিনি ওই টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। গত কয়েক মাস থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি তার আত্মীয়-স্বজন সবার কাছে সহযোগিতা চান। তবে তাকে গ্রেফতার করা হলে এ ঘটনার সত্যতা শতভাগ জানা যাবে।


বিবার্তা/খলিল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com