ফারুক হত্যা মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৯ আগস্ট
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২০:১৮
ফারুক হত্যা মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৯ আগস্ট
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আরো ১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়।


পরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির আগামী ২৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত আদালতে মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়।


প্রায় ৩ বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হন সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা।


আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার আদালত কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। সেই অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রানা টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে আসেন। পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির এ চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর চিকিৎসক ডা. মোজাম্মেল হোসেন সাক্ষ্য দেন এবং পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। বিকেলে আদালতের বিচারক রাশেদ কবির আগামী ২৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন।


এদিকে রানার আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে কোর্ট চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়। রানার সমর্থকরা আদালতের আশপাশে জড়ো হয়।


হাইকোর্টের জামিন নামা পাওয়ার পর সমস্ত পক্রিয়া শেষ করে গত ৯ জুলাই সকালে আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। দু’টি হত্যা মামলায় দুই বছর ৯ মাস ২১ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।


দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিন্ম-আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।


তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে তিনদফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার হন একই বছরের ২৪ আগস্ট। তিনি দশদিনের রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উভয় আসামির জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়।


এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তদানীন্তন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন। গত ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার সাক্ষীগ্রহণ চলছে।


টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে রানাকে বাদ দিয়ে তার বাবা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। আতাউর রহমান খান দলের মনোনয়ন পেয়ে এবাবের একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com