মহিপুরে চলছে খাস জমি দখলের মাহোৎসব!
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৭
মহিপুরে চলছে খাস জমি দখলের মাহোৎসব!
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মৎস্য বন্দর মহিপুরে সরকারি খাস জমি দখলের মাহোৎসব চলছে। এতে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা আধা পাকা অসংখ্য স্থাপনা।


অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী ও স্থানীয় তহসিল অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনে দুপুরে এসব স্থাপনার কাজ চলছে।


সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভূমি অফিসের একমাত্র খাস পুকুরটি দখল করে তোলা হয়েছে প্রায় অর্ধশত দোকান ঘর। এছাড়া ওখানকার তহসিল অফিসের নিজস্ব পুকুরটিও দখল করে তোলা হয়েছে প্রায় আট থেকে দশটি দোকান ঘর। বর্তমানে অনেক স্থাপনা নির্মাণধীন। দিনে দুপুরেই কাজ চলছে এসব স্থাপনার।


বর্তমানে মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের বিপরীতে জমি দখল করে নতুন স্থাপনার কাজ চলছে। মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে ঘর তোলার হিড়িক চলছে।


জানা য়ায়, মহিপুর বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমি বর্তমানে বেদখল রয়েছে।


এদিকে ভূমি অফিসের রয়েছে ৯.২৩ একর জমি। এরমধ্যে বেশির ভাগই প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের শেখ রাসেল সেতুর নিচের জমি দখল করে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।




মহিপুর এস আর ও এস বি লিমিটেডের সভাপতি ওমর ফারুক আকন জানান, তাদের সমিতির সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখল করে একটি অবৈধ স্থাপনা তুলেছে শানু মাঝি নামে এক ব্যক্তি।


এভাবে মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে প্রায় দুই-শতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেক স্থানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।


মহিপুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব সত্তার হাওলাদার বলেন, রাতের আধারে এসব অবৈধ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এর ফলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।


সাবেক ইউপি সদস্য হাজী আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, পুকুর ছিল সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের একমাত্র অবলম্বন। এ পুকুরে মাছের চাষ হত। বড় বড় মাছ ছিল। মানুষ ধরে খেত। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পুকুর গুলির অস্তিত্ব এখন বিলীন হয়ে গেছে।


মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আজিজুর রহমান (তহশিলদার) বলেন, পূর্বতন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা এক বছরের বন্দোবস্ত দিয়ে গেছেন। আর এ সুযোগ কাছে লাগিয়ে বন্দোবস্ত গ্রহীতারা পাকা স্থাপনা তুলেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় একের পর এক নতুন স্থাপনা উঠছে। আমি যোগদানের পর সকল বিষয় ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করেছি।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিবুর রহমান বলেন, মহিপুরের যে সমস্ত খাস পুকুর ও খাস জমি দখল হয়ে গেছে তা উদ্ধারে খুব দ্রুত এবং জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন প্রভাবশালীকে ছাড় দেয়া হবেনা।


পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান অলিউজ্জামান বলেন, আমাদের সকল বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। মহিপুরে যেসব বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তার মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়ে গেছে। এখন যেসব স্থাপনা রয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ইতোমধ্যে ৩০ অক্টোবর ২০১৭ সালে ২৯৭ নং স্মারকের মাধ্যমে এসব উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।


সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ শামস মোকাদ্দেস বলেন, যারা সড়ক ও জনপদের বিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ স্থাপনা তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/উত্তম/তাওহীদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com