মৌলভীবাজারে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৬
মৌলভীবাজারে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদী, মনু ও ধলাই নদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।


ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে জেলার তিনটি উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অর্ধশতাধিক গ্রাম।


মঙ্গলবার সকাল ১০টার মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, মনুর পানি বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা ৫২ সে ৬৭ন্টিমিটার ও ধলাই ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ, খলিলপুর ও আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ২১টি গ্রাম, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম, কমলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা, আদমপুর, ইসলামপুর ও রহিমপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হচ্ছে আরো কিছু গ্রাম।


এছাড়া অতিবৃষ্টিতে জেলার বড়লেখা, জুড়ি ও কুলাউড়ার নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ।


এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বন্যা মোকাবিলায় জেলাজুড়ে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ছয়টি, কমলঞ্জে তিনটি ও রাজনগরে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও বন্যাদুর্গত মানুষ সংঘবদ্ধভাবে উঁচু স্থান ও বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।


ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের জন্য চার মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।


এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে সাত মেট্রিক টন চাল ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং কুলাউড়া ও রাজনগরের জন্য আগাম ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রয়েছে।


মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, অন্যান্য এলাকায় ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। তবে যেসব এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছায়নি, সেসব এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে পৌর এলাকায় ত্রাণের ব্যবস্থা করবে পৌরসভা, আমরা কেবল মানবিক কারণে দিতে পারি।


ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, বন্যা-কবলিত প্রত্যেক উপজেলায় ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যার্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে বরাদ্ধ আরো বৃদ্ধি করা হবে।


বিবার্তা/তানভীর/তাওহীদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com