বিপদসীমার ওপরে পানি, তিস্তার সব গেট খোলা
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৪
বিপদসীমার ওপরে পানি, তিস্তার সব গেট খোলা
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। উজানের ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেটের সবক’টি খুলে রাখা হয়েছে।


ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদও বলেন একই কথা। তিনি গণামাধ্যমকে জানান, উজানের ঢল সামাল দিতেই তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে। এছাড়া তিস্তা বিপদসীমার ওপরে চলে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানের বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।


নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকার প্রায় ১৫টি চর ও চরগ্রাম হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে।


ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তার পানি শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে তিস্তা পাড়ের মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই হিসাব মানতে নারাজ। তাদের দাবি, পানি প্রবাহের মাত্রা এর চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো হিসেব রাখছে না।


পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, দুদিনের বন্যার চেয়ে শুক্রবার উজানের ঢলে পানির গতিবেগ অনেক বেশি ছিল। এলাকার অনেক উঁচু স্থানেও নদীর পানি প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে এলাকার এক হাজার ১৪০ পরিবারের বসত বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।


এলাকার ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর মৌজাটি তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার কাঁচা সড়ক। সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এলাকাবাসী বালুর বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।


স্থানীয় বানভাসী হামিদুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে পরিবার নিয়ে পানিবন্দি রয়েছি। চুলা জ্বালানোর উপায় না পেয়ে শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। গবাদি পশুসহ অনেক কষ্টে দিন কাটছে। বানভাসীদের জন্য সরকারি ত্রাণ এখনো বণ্টন করা হয়নি।


ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, ছাতুনামার চর, ফরেস্টের চর, সোনাখুলীর চর ও ভেন্ডাবাড়ি চরে দেড় হাজার পরিবারের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ সোনাখুলী এলাকায় তিস্তা নদীর ডান তীরের প্রধান বাঁধের কাছেই ইউনিয়ন পরিষদের তৈরি করা মাটির বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবেশ করায় দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া গ্রামের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে এলাকাটি পুরোপুরি তলিয়ে যাবে।


খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার জানান, পূর্ব বাইশ পুকুর ও ছোটখাতা মৌজার পাঁচ শতাধিক বসতঘরের ওপর দিয়ে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে।


টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, দক্ষিণ খড়িবাড়ি ও পূর্ব খড়িবাড়ি, একতার চর, টাবুর চর মৌজায় তিস্তার বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।


এদিকে, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী বানপাড়ায় ডানতীর গ্রাম রক্ষা বাধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আশরাফ আলী জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবেই আতঙ্কে আছি। এ বাঁধ ভেঙে শুধু বানপাড়ায় নয়, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ২০ হাজারেরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে পানিতে তলিয়ে যাবে।


এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, বানপাড়া বাঁধ ৬০ মিটার পর্যন্ত ভাঙন পাওয়া গেছে। ১২০ মিটার পর্যন্ত এ ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি। এটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রক্ষায় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে এর কাজ শুরু করা হবে।


ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের বিষয়ে আমরা সর্তক রয়েছি।


ডিমলা ইউএনও নাজমুন নাহার মুন বলেন, কিছু মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। আর কিছু পানিবন্দি অবস্থায় বাড়িতে রয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় এখনো রেড এলার্ট জারি হয়নি। তবে বানভাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান।’


নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও দুযোগ কর্মকর্তা এসএ হায়াত জানা, শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে ডিমলা উপজেলায় ৫০ টন চাল, ৫০ হাজার টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।


বিবার্তা/রবি/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com