চৌগাছায় বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ১৭:৪৪
চৌগাছায় বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ
যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের ছয় শতক জমির মালিকানা দাবি করে প্রাচীর নির্মাণ করেছেন আবুল কালাম আজাদ লাল্টু নামে এক ব্যক্তি।


আজাদের দাবি, বারবার অনুরোধ করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ জমি ক্রয় করেনি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জমি বিক্রির ব্যাপারে কেউ যোগাযোগ করেনি। এক মাস আগে জানা গেছে জমি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে এ বিদ্যালয়ে। ২২ বছর আগে স্থানীয়দের দানের জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চৌগাছা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর মৌজার এসএ ১০৫২, আরএস ২২২৯ দাগে ১৯৯৭ সালে মাকাপুর-বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার মানুষের দানের জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে বিদ্যালয়ের নামে ৭৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি হয়। তবে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় মাকাপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ৬শতক জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। তবে তিনি মৌখিকভাবে জমি দান করেন। ২০১৭ সালে আতিয়ার রহমান সেই ছয় শতক জমি আবুল কালাম আজাদ লাল্টু নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। ২০ বছর ধরে স্কুলের দখলে থাকা জমিতে ঈদের আগের দিন ছুটিতে নয়া মালিক আবুল কালাম লাল্টু ৪/৫ ইটের গাঁথুনিতে প্রাচীর নির্মাণ করেন। খবর পেয়ে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে যান। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির হস্তক্ষেপে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়। বিদ্যালয় মাঠের মাঝখানে প্রাচীর নির্মাণ করায় শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জমির মালিক আবুল কালাম আজাদ লাল্টু বলেন, আতিয়ার রহমান আমার চাচাতো চাচা। তার ছেলে বিপদে পড়লে জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করলেও রাজি হয়নি। তারা বলেছে, আমাদের আর জমি দরকার নেই। দেড় বছর আগে সেই জমি আমি কিনেছি। আমিও অনুরোধ করেছি। কিন্তু জমি ক্রয়ে রাজি হয়নি। মাসখানেক আগে জমি মেপেছি। ঈদের আগের দিন সীমানা পিলার দিয়েছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করেছে। আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন। ওই জমিতে পোল্ট্রি ফার্ম করার কথা সঠিক নয়।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে জমি বিক্রির ব্যাপারে কেউ যোগাযোগ করেনি। এক মাস আগে জানতে পেরেছি লাল্টু ওই জমি কিনেছে। লাল্টু ও তার ভাই হাকিম বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চাপে ফেলে ফায়দা লুটতে চাইছে। বিদ্যালয়ে কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। সেটি বাধাগ্রস্ত করতে চায়। প্রতিষ্ঠান তো আর আমার ব্যক্তিগত নয়। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।


তিনি বলেন, হুমকি-ধমকিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে রয়েছে।


বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় স্কুলের দখলে থাকা ওই জমি কিনে সেখানে পোল্ট্রির ফার্ম করার জন্য প্রাচীর তুলেছে। এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।


বিবার্তা/তুহিন/আকবর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com