ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ লালমনিরহাট পৌরবাসী
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ১৫:৩৩
ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ লালমনিরহাট পৌরবাসী
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন লালমনিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমে থাকায় চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।


ঈদুল ফিতর উদযাপনের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলার কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।


সংশ্লিষ্টরা জানান, লালমনিরহাট পৌরসভাটি কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণীর হলেও জনবল কাঠামোসহ নানা সংকটে শহরের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ময়লা অপসারণের জন্য পৌরসভার পানি ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের পাশে একটি গর্ত ভাগাড় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও প্রকৃত অর্থে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।


জানা গেছে, লালমনিরহাট পৌরসভাটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভাটি রংপুর বিভাগের অন্তর্গত লালমনিরহাট জেলা সদরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এর পূর্বপাশে কুলাঘাট ইউনিয়ন, উত্তরে মোগলহাট ইউনিয়ন, দক্ষিণে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে সাপটিবাড়ি ইউনিয়ন অবস্থিত। এই পৌরসভায় মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। পৌরসভার মোট আয়তন ১৭.৪০ বর্গকিলোমিটার। ২০০৫ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৬২ হাজার ৪৬৭।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুরকিমিল, খোর্দ্দসাপটানা, শাহজাহান কলোনি, মিশনমোড় থেকে কুলাঘাটগামী শহরের প্রধান সড়কের দুপাশে, নবাবের হাট সংলগ্ন, নর্থবেঙ্গল রোড, কুড়াটারী, খোচাবাড়ি, শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ের আশপাশে ময়লার স্তূপ জমে আছে।


মিশনমোড়ের ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মনতাজ আলী, হোটেল ব্যবসায়ী গোবিন্দ, স্থানীয় অধিবাসী রানিছা বেগম, শাহানা খাতুনসহ অনেকে বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে শহরের মানুষ এখন অতিষ্ঠ। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে চা, নাশতা খাওয়ার পরিবেশ নেই। রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, পৌর শহর থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা মজুদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।


শহরের সাপটানা এলাকায় বসবাসকারী অনেক পরিবার জানায়, আবর্জনার কারণে মশা মাছির উপদ্রুপ বেড়েই চলেছে। যার কারণে তাদের ছেলে-মেয়েরাসহ পরিবারের সবাই প্রায়ই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই ময়লা আবর্জনার অপসারণের জন্য পৌর মেয়রকে একাধিকবার বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
লালমনিরহাট পৌরসভার পরিছন্নতা পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শহরের আবর্জনা অপসারণের জন্য ঝাড়ুদার রয়েছে ৯৪ জন, ড্রেন ক্লিনার আছে ২৪ জন, আবর্জনা ফেলার লেবার রয়েছে ২১ জন। এছাড়া আবর্জনাবাহী ট্রলি ৬টি এবং ট্রাক রয়েছে ৩টি। কিন্তু ট্রাকগুলি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই (প্রায় চল্লিশ বছর আগে কেনা)। ফলে একটি ঠিক থাকলে অপরটি সচল না করার কারণে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।


তিনি বলেন, আমাদের চাহিদার চেয়ে ৩টি ট্রাক কম রয়েছে। এছাড়া আবর্জনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের জন্য ৩টি হাইড্রোলিক ট্রাক প্রয়োজন যা এর আগে ছিল। তবে নষ্ট হওয়ায় পৌরসভা চত্বরে দীর্ঘদিন থেকে সেগুলো পড়ে আছে। এদিকে পৌরসভা চত্বরের শেডে থাকা একটি ট্রাকের ব্যাটারি কয়েকদিন আগে চুরি হয়ে গেছে। তার দাবি স্থানীয় একটি চক্র প্রায়ই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলে যানবাহন সংকটে শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।


পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কিসমত আলী বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজে নানাভাবে টালবাহানা করেন। এ বিষয়ে তিনি মেয়রের নিকট অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।


লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেন, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই অবস্থা আর বেশিদিন থাকবে না। তিনি শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।


বিবার্তা/জিন্না/তাওহীদ/আকবর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com