ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘটনাবহুল ৪ জুন
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ১২:১২
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘটনাবহুল ৪ জুন
মোল্লা তোফাজ্জল
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসড়ক ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৩ টি জেলার যানবাহন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। ঈদসহ যেকোনো উৎসবের ছুটিতে এই সড়কে যানজট স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। কিন্তু এবার ঈদুল ফিতরে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে চার লেনের সুবিধা এবং টাঙ্গাইল পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকায় যানজটের সম্ভবনা ছিল না বললেই চলে।


সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল। কিন্তু ঈদের আগের দিন ৪ জুন মঙ্গলবার সকালে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইলের পাকুল্লা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ।



অতিরিক্ত গাড়ির চাপে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জ এলাকার যানজটের কারণে টাঙ্গাইল অংশেও সেই যানজট সৃষ্টি হয়। সেতুতে গাড়ি স্থির থাকায় বন্ধ হয়ে যায় টোল আদায় কার্যক্রম।


এদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনের বাম্পার টু বাম্পার আটকে থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন ঘরমুখী মানুষ । এদের মধ্যে কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে টাঙ্গাইলের রসুলপুর এলাকায় প্রশাসনের একটি গাড়িতে আগুণ ধরিয়ে দেন ও আরেকটি গাড়ী ভাঙচুর করেন।


গাজীপুর থেকে কুড়িগ্রামগামী এক গর্ভবতী মহিলা জ্যামে আটকে পড়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে গোলচত্তর এলাকায় কন্যা সন্তান প্রসব করেন।


আবার মহাসড়কের ঢাকাগামী লেন ফাঁকা দেখে ব্যাট বল হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে ক্রিকেট খেলেন কিছু যাত্রী। এসব বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যাপকভাবে প্রচার হলে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।


পরে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান মহাসড়ক পরিদর্শন এসে আগুন দেয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানান।
সেই দিন ঢাকা থেকে ভূঞাপুরগামী আজহারুল ইসলাম তালুকদার নামের এক যাত্রী পরিবারসহ যানজটে আটকা পরেছিলেন টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস এলাকায়। তিনি বলেন, আমরা একটানা প্রায় ৫ ঘণ্টা জ্যামে ছিলাম। আামদের অদূরেই কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে টায়ারে ও গাড়ীতে আগুন দেয়। তাদের কথা বার্তা এরকম ছিল যে আমরা বাড়ি যেতে পারছি না তাই আর কাউকেই যেতে দিবো না।


তিনি আরো বলেন, প্রিয় জনের উদ্দেশ্যে আমরাও যাচ্ছি। কষ্ট হলেই এই ধরনের জঘন্য কাজ করতে হবে? তবে এদের অধিকাংশই ছিল শ্রমিক শ্রেণীর।



মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হানিফ পরিবহনের এক বাস চালক এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বলেন, শুনলাম সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে গাড়ি টানতে পারছে না তাই আমরাও যেতে পারছি না। তবে রাস্তায় পুলিশের ভূমিকা ভাল।
এছাড়া সোমবার দুপুরে ইকবাল হোসেন নামের এক যাত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমি চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গায় এসেছি মাত্র ১ ঘণ্টায়। রাস্তায় কোন যানজট ছিল না। পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ঈদের আগে বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মহাসড়ক অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। মানুষ স্বস্তিতে যাতায়াত করেছেন।


পরিবহন সেক্টরের একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মতো বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়সহ সিরাজগঞ্জে সড়কে পুলিশ তৎপর থাকলে এই যানজট এবং ঘটনাগুলো হতো না।


এবিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) এর বঙ্গবন্ধু সেতুর এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আহসানুল কবির পাভেল বলেন, ৪ জুন সকাল ৬ টা ৫০মিনিট থেকে ৯ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আমরা টোল আদায় করতে পারি নাই। কারণ অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সিরাজগঞ্জ এলাকায় গাড়ি পাস হচ্ছিল না। সেতুর উপর গাড়ীর আটকে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।



তিনি আরো বলেন, সেতুর পশ্চিম প্রান্তে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে আমি সন্দিহান।


বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা তখন ডিউটিতে ছিলাম। সেতুর পশ্চিম প্রাপ্ত, সিরাজগঞ্জ এলাকার কড্ডার মোড়, হাটিকমরুল ও নলকা ব্রিজের যানজটের কারণে আমাদের পূর্ব প্রান্তেও তীব্র যানজট লাগে। কারণ পূর্বপ্রান্তের গাড়িগুলো পশ্চিমপ্রান্তে ঢুকতে পারছিল না।


এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায় স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন সেতু দিয় ১৪-১৫ হাজার যানবাহন পাড়াপাড় হয়ে থাকে। কিন্তু ঈদে তা ২ থেকে ৩ গুণ বেড়ে যায়।


টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির বলেন, সোমাবার সকাল ৬ টা মঙ্গলবার সকাল ৬ পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ২৭১টি যান পাড়াপাড় হয়েছে। আর টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। যা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে।


এবিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঈদে যানজট নিরসনে ও মহাসড়কে যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার জন্য টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ৭ শতাধিক পুলিশ নিয়োজিত আছেন। ঈদের পুরো সময় মহাসড়ক স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত গাড়ির চাপে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যানবাহন অতিক্রম করতে না পারায় এবং সিরাজগঞ্জ এলাকায় পুলিশের জোরালো তৎপরতা না থাকায় মঙ্গলবার সকালে যানজট সৃষ্টি হয়। সেই যানজট টাঙ্গাইল অংশে ছড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হন অসংখ্য মানুষ।


তবে যানজটের সময় গাড়ীর পোড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এর জন্য আইনগত ব্যবস্থা হবে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/তাওহীদ/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com