সিংড়ায় বিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ১৪:০১
সিংড়ায় বিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নাটোরের সিংড়ায় বিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল খুশি মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলা প্রশাসন ও বিয়াম ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা জামায়াত ঘরনার লোক বলে জানা গেছে।


অভিযোগে জানা যায়, অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান ২০১৪ সালে সিংড়া বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি মাসিক এক হাজার টাকায় স্কুলের জন্য ব্যবহৃত সরকারি কোয়ার্টারের তিনটি রুম আবাসিক রুম হিসেবে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।


অথচ সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহারের কোনো নিয়ম মানা হয়নি। উপজেলা পরিষদের তহবিলে প্রায় লক্ষাধিক টাকা বকেয়া পড়ে আছে। যা আজো পরিশোধ করা হয়নি। প্রায়ই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ এবং অশ্লীল গালিগালাজ করেন। ৫ম ও ৮ ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিংয়ের নামে ৫০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে টিসি দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।


২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বিয়াম ফাউন্ডেশনের লোগো ব্যবহার করে নাটোরের একটি প্রেস থেকে ১৫শ খাতা অল্প মূল্য ক্রয় করে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। অথচ বিয়াম ফাউন্ডেশন এটি সরবরাহ করে। কিন্তু বিয়ামের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার দাপট দেখিয়ে তিনি স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে প্রায় রুক্ষ আচরণ করেন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি ওই পদে বহাল থেকে নিজের খেয়াল খুশি মত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাকে বদলী করার ক্ষমতা কারো নাই বলে ও তিনি দাম্ভিকতা দেখান।


তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরীক্ষার খাতা প্রতি ৮০ টাকা করে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ কমিশন গ্রহণ করেন। বিয়ামের অর্থ কমিটি এবং অভ্যন্তরীণ কমিটিকে না জানিয়ে বিয়ামের বহুতল ভবন নির্মাণের টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন না করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে লাখ লাখ টাকার বিল ভাউচার দাখিল করে যাচ্ছেন।


তিনি কয়েকদফায় ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়া অর্থের বিনিময়ে একাধিক শিক্ষক নিয়োগ করেন। যা বিধি বহির্ভূত। সম্প্রতি তার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই স্কুলের ১৮ জন শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হওয়ায় অধ্যক্ষ আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন।


চলতি বছর স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ এ বাবদ ৮০০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১শ টাকা করে নেয়া হয়েছে সে টাকারও হদিস নাই। এ বছর অর্থ কমিটিকে বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে একটি ফটোকপির মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া ফি প্রতি বছর তিনশ টাকা নেয়া হলে ও কোনো মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয় না।


এছাড়া পূর্বের ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে নতুন করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ সে কমিটিতে কারা রয়েছে সে বিষয়টি ও গোপন রাখা হয়েছে। পূর্বের ম্যানেজিং কমিটির দুজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও দুজন অভিভাবক প্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে নিজের মনগড়াদের ম্যানেজিং কমিটিতে স্থান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ কোনো আলোচনা ছাড়াই ম্যানেজিং কমিটিকে তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এতে করে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিরূপ ধারনা সৃষ্টি হবে।


বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান জানান, তার নিয়োগে বিএড এর বিষয়টি উল্লেখ ছিলো না। বিষয়টি বিয়াম ফাউন্ডেশন জানে। এছাড়া আর্থিক বিভিন্ন অনিয়মের কথা বললে তিনি জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অনুমতিতে সবকিছু করা হয়েছে।


এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোকে ফোনে দিয়ে পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/রাজু/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com