নুসরাত হত্যা: সেই রুহুল আমিন আটক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৭
নুসরাত হত্যা: সেই রুহুল আমিন আটক
ফাইল ছবি
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে সোনাগাজী উপজেলা শহরের উত্তর চর চান্দিয়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। রুহুল আমিনকে ফেনী পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন শেষে হত্যার পর থানা-পুলিশ ম্যানেজের দায়িত্বে ছিলেন রুহুল আমিন। হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীম গত ১৪ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।


পুলিশ, আইনজীবী, আদালত ও পিবিআইর একাধিক সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২৫ থেকে ২৬ জন জড়িত। দুই আসামির জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার দুই ছেলেও জড়িত ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার আগ থেকে তারা বিষয়গুলো জানতেন। আদালতে শাহাদাত হোসেন শামীম ২৫ পৃষ্ঠা এবং নুর উদ্দিন ৩০ পৃষ্ঠার জবানবন্দি দেন।


জানা যায়, ২৭ মার্চ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ওই মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। পরে জনরোষে তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন সোনাগাজী জিরোপয়েন্টে মাদরাসার অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে কাউন্সিলর মুকছুদ আলমের নেতৃত্বে যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয় তাতেও ইন্দন দেন রুহুল আমিন।


অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নানা অপকর্মের ঢাল হিসেবে ব্যবহার হতেন রুহুল আমিন। মাদরাসার নানা অনিয়ম-দুর্নীতি প্রভাব খাটিয়ে রফাদফা করতেন তিনি। দুই মাস আগে ওই মাদরাসার আরেক ছাত্রীকে অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির ঘটনাও রুহুল আমিন-মুকছুদই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিয়েছেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদরাসা ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও প্রভাব খাটিয়ে পরবর্তীতে ভুয়া ভাওচার দিয়ে পাস করিয়ে নেন তিনি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার নানা দুর্নীতি ছাড়াও জমি দখল, পদবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বভাবে ভালো মানুষ রুহুল আমিনের রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। সেই বাহিনী দিয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়ালেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না।


অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরীন ফেরদৌসির বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। পরবর্তীতে সেই মামলা প্রত্যাহার করেন। দলে প্রভাব খাটিয়ে পদবাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একইভাবে সোনাগাজী উপজেলার সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে মোটা অংকের উপরি নিয়ে অপেশাদারদের হাতে তুলে দেন। দলের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার চরচান্দিায়া পূর্ব বড়ধলি মৌজায় শতাধিক ভূমহীনের জমি দখল করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।


বিবার্তা/জনি/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com