আজ হাতিয়া গণহত্যা দিবস
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৫৯
আজ হাতিয়া গণহত্যা দিবস
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

আজ ১৩ নভেম্বর শোকাবহ ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’। কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর সহযোগিতায় নিরীহ ৬৯৭ জন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্ঠিত উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের দাঁগারকুটি গ্রামের ঘুমন্ত এসব নিরীহ মানুষকে ধরে এনে পাকিস্তানি হায়েনারা নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে হত্যা করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে জঘন্যতম নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে ইতিহাস তেমন গুরুত্ব না পেলেও উলিপুরের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। আজও নিহত শহীদদের স্বজনরা খুঁজে ফিরে তাদের আপনজনদের।


দাগারকুটি গ্রামটিকে ঘিরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে এলাকার মানুষজন প্রতি বছর শহীদদের স্মরণ করে আসছে শহীদ পরিবার গুলোসহ উলিপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। উপজেলা প্রশাসন দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতা যুদ্ধের এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হয়তো মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যাবে, কিন্তু শহীদের স্বজনরা তাদের আপনজনদের স্মরণ করবেন সারাজীবন নিরবে-নিভৃতে। গণ-হত্যার শিকার শহীদ পরিবার গুলোর দাবী হাতিয়া গণহত্যা দিবস জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যদায় পালনসহ ক্ষতিগ্রস্ত শহীদ পরিবার গুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন করা হউক।


১৯৭১ সালের সেই নারকীয় রক্তঝরা দিনটি ছিল ২৩ রমজান, শনিবার। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ ভোর রাতে সেহেরী খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে ফজরের নামাজের আযান ধ্বনিত হচ্ছে মসজিদে মসজিদে। নামাজের প্রস্তুতি নিতে অজুও সেরে ফেলেছেন অনেকে। হঠাৎ পাকিস্তানী হায়েনার মর্টার সেল আর বন্দুকের অবিরাম গুলি বর্ষণে প্রকম্পিত হয়ে উঠে দাগারকুটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলো। মানুষজন কিছু বুঝে উঠার আগেই পাকিস্তানী হায়েনা ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী মিলে গ্রামের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর সাথে চলতে থাকে লুটপাট ও নির্যাতন।


আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে এলাকার নিরীহ মানুষ দিশেহারা হয়ে এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি শুরু করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিবর্ষণ থেকে জীবন বাঁচতে পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতসহ ঝোঁপ-জঙ্গলে শুয়ে ব্যর্থ চেষ্টা করেন। অনেকে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অসহায় বৃদ্ধ আর শিশুদের আর্তচিৎকারে এলাকার আকাশ-বাতাস ক্রমেই ভারী হয়ে উঠে। এসব অসহায় গ্রামবাসীর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা মহুর্তেই শেষ হয়ে যায়।


পাক-হানাদার বাহিনী, তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর সহযোগিতায় আত্মগোপন করা মানুষগুলোকে ধরে নিয়ে দাগারকুটিতে জড়ো করে হাত-পা বেঁধে নির্দয়ভাবে গুলি করে হত্যা করে। তাদের এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে সেদিন বৃদ্ধ ও মায়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা শিশুরাও রক্ষা পায়নি। দিনব্যাপী চলে পাক-হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগ। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর, দাগারকুটি, হাতিয়া বকসি, রামখানা ও নয়াদাড়া গ্রামের শত শত ঘর-বাড়ী। মূহুর্তেই গ্রামগুলো পরিণত হয় ধ্বংস স্তূপে। সেগুলো আজ শুধুই স্মৃতি।


বিবার্তা/সৌরভ/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com