সখীপুরে ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৩
সখীপুরে ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নে চোর ও ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন গ্রামবাসী। গত কয়েক দিন ধরে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত গরু, ছাগল ও মহিষ চুরি হওয়ার পর চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে গ্রামবাসীদের মাঝে। বিগত ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে ওই ইউনিয়নে প্রায় ৩০-৩৫টি গরু এবং প্রায় অর্ধ শতাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দিঘীরচালা, বুড়িরচালা, বাঘেরবাড়ি, ইন্দ্রারজানি, ঢণঢণিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩০-৩৫টি গরু ও ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে রাতের আঁধারে বাড়ির গ্রিল কেটে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধ শতাধিক মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও কাটছে না আতঙ্ক। ফলে গ্রামবাসী কোনো উপায় না পেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই দেয়ার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।


জানা গেছে, ঈদুল আযহার আগে থেকে শুরু হয়ে অধ্যবধি পর্যন্ত ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ আগস্ট গড় বাড়ি গ্রামের মালেক মিয়ার একটি ষাঁড় চুরি হয়। এর পরে ওই এলাকার বায়েজিদ মিয়ার দেড় লাখ টাকার মূল্যে ২টি, শাহজাহান মিয়ার ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩টি, বাঘের বাড়ি গ্রামের জনৈক কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ২টি, দিঘীর চালা শাহজাহান মিয়ার ১টিসহ প্রায় ২৫-৩০টি গরু চুরি হয়।


অন্যদিকে কয়েক দিন আগে শ্রীপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের বাড়ি থেকে ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগে ইন্দ্রারজানি গ্রাম থেকে একই রাতে ৩ স্কুল শিক্ষকের বাড়ির গ্রিল কেটে মোটরসাইকেল চুরি হয়। অন্যদিকে উপজেলার কাজিরামপুর এলাকার তুলা মিয়ার নিজ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘবদ্ধ চোরেরা নগদ টাকা, গহনা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে। এর পরে হামিদপুর চৌরাস্তা বাজার ও ইন্দ্রারজানি বাজারের ৪টি মুদির দোকান থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।


সরেজমিনে উপজেলার ছোট দিঘীর পাড় গ্রামে ঘিয়ে দেখা গেছে, চোর ও ডাকাত আতঙ্কে গত এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকার শাহজাহান ও জাহিদুলের নেতৃত্বে লাঠি সোটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। গ্রামের ১৫/২০ জন যুবক দলবদ্ধ হয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে পাহারা দিচ্ছেন।


সচেতন নাগরিকদের মতে, গ্রেফতারের পর কয়েক দিন কারাভোগ করে চোর ও ডাকাত দলের সদস্যরা জামিনে বেড়িয়ে পুনরায় তাদের পেশায় এবং মাদক সেবীরা নেশার টাকা জোগাড় করতেই চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।


এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ওসি এসএম তুহিন আলী বলেন, এলাকাবাসীর জান মালের নিরাপত্তা দেয়াসহ চুরি ও ডাকাতি রোধে পুলিশ কাজ করছে।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com