পদ্মা পাড়ে গাছে গাছে ডাকছে শামুকখোল
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৭
পদ্মা পাড়ে গাছে গাছে ডাকছে শামুকখোল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

রাজশাহী নগরীর কারাগারের পেছনে শিমলা পার্ক এলাকা। দুই রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ সবুজ গাছ। সকালে দূর থেকে শোনা যায় কক কক শব্দ। শুনেই বোঝা যায় পাখির মেলা বসেছে সেখানে। একটু এগিয়ে বড় বড় গাছের মগডালে তাকালে দেখা মিলবে সাদা কালো রঙের বড় ঠোঁট আর নখের শ্বেতকায় বৃহদাকৃতির পাখি।


এগুলো শামুকখোল পাখি। নগরীর কেন্দ্রীয় কারাগারের দক্ষিণে নদীপাড়ে বড় গাছের মগডালে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই পাখিদের কোলাহল। খুব সকাল হলে খাবারের খোঁজে নদীর অল্প পানিতে চলে যায়। রোদ বেশি পড়লে আকাশে উড়ে বেড়ায়।


স্থানীয়রা বলছেন, অতীতে এখানে আরো বেশি পাখির সমাহার হতো। কিন্তু আশেপাশের বড় গাছ কাটার ফলে পাখি খুব কম আসে। কিন্তু বর্তমানে আবার তাদের দেখা যাচ্ছে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর আমিনুজ্জামান সালেহ রেজা জানান, ''এই পাখি আমাদের দেশের পাখি। অন্য পাখিদের থেকে শামুকখোল একটু আলাদা প্রকৃতির। এদের ঠোঁট অনেক বেশি লম্বা। এই পাখি সাধারণত খালবিল, ধানখেত, নদীপাড় এলাকায় বিচরণ করে থাকে। বড় কলনিতে রাত্রিযাপন এবং প্রজনন করে থাকে। খাবার এবং নিরাপত্তার অভাব না হলে এরা সাধারণত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায় না। এরা ভোরে খ্যাদ্যের সন্ধানে আবাস ছেড়ে দল বেঁধে জলাভ‚মির দিকে বের হয়। অল্পপানির ধারে হেঁটে হেঁটে কাদায় মুখ লাগিয়ে তাদের খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্য তালিকায় শামুখ, ঝিনুক প্রধান খাবার। এছাড়া ছোট মাছ, পোকামাকড়, ব্যাঙ এবং কাকড়া খায় এরা।''


তিনি আরো জানান, ''বর্ষকালে শামুকখোলের প্রজনন শুরু হয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস এদের প্রজননের মৌসুম। বক, পানকৌড়ি, গয়ার পাখির বাসার পাশে এরা বাসা বানায়। বাসা বানাতে ৫ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে এদের। বাসা বানানোর পরে ডিম দেয়া শুরু হয়। ৩ থেকে ৫টি সাদা রঙের ডিম পাড়ে এরা। তবে ডিম পাড়ার সময় তারা সতর্ক থাকে কারণ সুযোগ পেলেই কাক তাদের ডিম খেয়ে ফেলে। তাই সঙ্গীর একটি বাসায় থাকে আরেকটি খাবারের সন্ধানে চলে যায়। ২৫ দিনে ডিম ফেটে এদের বাচ্চা বের হয়। তাদের বাচ্চাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে মুখে এবং পায়ের নোখে খাবার এনে বাসায় খাওয়ায়।''



প্রফেসর আমিনুজ্জামান সালেহ রেজা জানান, ''এখন রাজশাহীতে প্রচুর পরিমাণে শামুকখোল রয়েছে। নগরীর বাইরের উপজেলাগুলোতে গ্রামের বিলের ধারে এবং ছোট জলাশয়ের পাশে বড় গাছে তাদের দেখা মিলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর শামুকখোল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়ে তারা দিনে খাবার খোঁজে এবং রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় গাছে তারা বাসা বানিয়ে থাকে। এছাড়া পদ্মার নদীর ধারে বিশেষ করে কারাগারের পেছনে তাদের দেখা বেশি মিলে। সেখানে বড় বড় গাছে তারা বাসা বানিয়ে থাকে এবং পদ্মার অল্প পানিতে খাবার সংগ্রহ করে।''


বিবার্তা/তারেক/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com