কর্দমাক্ত সড়কে আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ভোগান্তি
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৭
কর্দমাক্ত সড়কে আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ভোগান্তি
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের টিঅ্যান্ডটি সড়ক ও স্থানীয় মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান সড়কটি প্রায় দুই মাস ধরে চলাচলের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার দুই শতাধিক পরিবার ও বিদ্যালয়ের আড়াই হাজার শিক্ষার্থী।


এ দুর্ভোগের জন্য ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।


স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা সদরের টিঅ্যান্ডটি সড়কটি গত আড়াই মাস আগে মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দরপত্র আহবান করে। লটারির মাধ্যমে কাজ পায় ঝালকাঠির মো. সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ঠিকাদার। তার কাছ থেকে রাজাপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মজিবর কাজটি কিনে নেন। এরপর ঠিকাদারের নির্দেশে প্রথমে আরসিসি ঢালাই সড়কটি ভাঙতে শুরু করে শ্রমিকরা।


এ সময় এলাকাবাসী ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ঠিকাদারকে বর্ষার পরে সড়কটি খোঁড়ার অনুরোধ করেন। এলাকাবাসীর কথায় পাত্তা না দিয়ে ঠিকাদার সড়কটি ভেঙে ফেলেন। ভাঙা সড়কের সব কংক্রিটের টুকরা ট্রাকে করে ঠিকাদার অন্যত্র নিয়ে যান। এখন সড়কটি জল-কাদায় একাকার। এছাড়া এই কাজের সঙ্গেই সংযুক্ত করা হয় রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশের ৬০ ফুট সড়ক। বিদ্যালয়ের সড়কটিও একই অবস্থা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এখন চরমে।


সরেজমিনে দেখা যায়, টিঅ্যান্ডটি সড়কটি খুঁড়ে রাখায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। কোথাও আবার কম দামের ইট এনে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ভেতরে প্রবেশের সড়কটিও খুঁড়ে রাখায় পানি ও কাদা জমে আছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাদাপানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। সড়ক সংস্কারের নামে দুই মাস ধরে এভাবে ফেলে রাখায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


টিঅ্যান্ডটি সড়কের বাসিন্দা মো. রুবেল তালুকদার বলেন, ''সড়কের নির্মাণকাজ বর্ষার পরে শুরু করার জন্য আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা শোনেনি। তাই গত দুই মাসের বর্ষায় আমাদের এই নাজেহাল।''


রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইয়াসির আরাফাত বলেন, ''সামনের গেট থেকে বিদ্যালয়ের সিঁড়ি পর্যন্ত রাস্তা খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে সেখানে সামান্য বর্ষাতেই পানি জমে যায়। আমাদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে প্রায়ই বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।''


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন মজিবর বলেন, ''খুব শিগগিরই সড়কের কাজ শুরু করা হবে। প্রথমেই বালি দিয়ে সড়ক উঁচু করে চালাচলের উপযোগী করে দেয়া হবে।''


বিবার্তা/আমিনুল/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com