শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত শতাধিক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৭:১৩
শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত শতাধিক
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, লাঠিপেটা ও সংঘর্ষে কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আবুল কালাম ও পথচারী ভ্যান চালক সফর আলী (৫৫) নামে দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১০ পুলিশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে শতাধিক।


রবিবার দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে এঘটনা ঘটে। বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানায়, ফুলবাড়িয়া কলেজকে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত না করে উপজেলার অন্য একটি কলেজকে তালিকাভুক্ত করায় দেড় মাস ধরে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন লাগাতার আন্দোলন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে।


এসময় হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে সফর আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আহত আবুল কালামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজিব জানান, দুপুরে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিলে প্রথমে বাঁধা দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে বাঁধা না মেনে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতেই লাঠিচার্জ করা হয়।


তিনি আরও বলেন, নিহত সফর আলীর মৃত্যদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশের লাঠিচার্জে মারা যায়নি। অন্য কোনো কারণে তিনি মারা যেতে পারেন।


তবে আহত ফুলবাড়ীয়া কলেজ সরকারিকরণ দাবি আদায় কমিটির আহ্বায়ক এসএম আবুল হোসেন ও যুগ্ম-আহবায়ক রুহুল আমীন জানান, বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ কলেজের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পিটিয়েছে। এসময় পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুঁড়ে। যে কারণে আমাদের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আবুল কালামসহ দুজন মারা গেছে।


শিক্ষক নেতা এসএম আবুল হোসেন জানান, এমন পৈশাচিক মারধর চোর-ডাকাতকেও মারা হয় না। শিক্ষক মেহেদি হাসান অভিযোগ করেন, আমাদের না মারার জন্য পুলিশকে শেষ পর্যন্ত বাপ-ভাই ডেকেছি। কিন্তু কোনো কথাই কাজে আসেনি।


তিনি বলেন, এসআই রকিবুল ও তাজুলের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে বেধড়ক পিটিয়েছে আমাদের। মরধরে গুরুত্বর আহত আবুল কালাম স্যারকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে ৩টি অ্যাম্বুল্যান্স আনা হয়। কিন্তু বাঁধা দেয়। পরে কলেজের পিছন দিয়ে বের হয়ে কোনো রকমে চুরখাই সিবিএমসিবিতে ভর্তি করি। এরপর মারা যান তিনি।


নিহত শিক্ষক আবুল কালামের স্ত্রী একই কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সাইফুন্নার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অভিযোগ করেন, স্বামীকে উপযুক্ত সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হয়তো বেঁচে যেতেন।
এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুরো ফুলবাড়িয়াজুড়ে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও আতংক।


বিবার্তা/ফাহিম/প্লাবন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com