রোহিঙ্গা শিবিরে এক বছরে ২১ খুন
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:২৩
রোহিঙ্গা শিবিরে এক বছরে ২১ খুন
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে নতুন জীবন পেয়েছিল রোহিঙ্গারা। ঠাঁই হয় সীমান্তের উখিয়া-টেকনাফের বিশাল বনভূমির ৩০টি ক্যাম্পে।


কিন্তু এখানে আশ্রয় নিয়ে শান্ত নেই রোহিঙ্গারা। তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করছে। জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধে। গত এক বছরে আশ্রয় শিবির গুলোতে আধিপত্তবিস্তারকে কেন্দ্র করে ২১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা।


২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারে নির্যাতন-নিপীড়ন, ধর্ষণ ও গণহত্যা শুরু হওয়ায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সেই হিসেবে রোহিঙ্গা প্রবেশের এক বছর পেরিয়ে গেছে। হত্যা, ধর্ষণ, মাদক পাচার, ডাকাতিসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা রোহিঙ্গারা গত এক বছরে করেনি। দিন দিন রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


কক্সবাজার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে আশ্রয় শিবিরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কমপক্ষে ২১ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২৩৮টি। এর মধ্যে মাদক (ইয়াবা, গাঁজা) মামলা রয়েছে ৬৮টি। একটি গণ ধর্ষণসহ ৬টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। বাকিগুলো ডাকাতি, মারামারি, চোরা চালানসহ অন্যান্য। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ১২২ জন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠুনকো বিষয় নিয়ে খুনাখুনিতে জড়িয়ে পড়ে রোহিঙ্গারা। হিংস্র দানবের মত মুহুর্তেই খুন করে বসে স্বজাতিকে। অল্প জায়গার মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীর বসবাস হওয়ায় এসব ঘটনা সহজে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয় না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পাচারকারী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই কাজে জড়িত বেশি। পাচার করতে গিয়ে আটকও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু তারপরও রোহিঙ্গাদের ইয়াবা পাচার থামানো যাচ্ছে না। আশ্রয় শিবিরে বেকার বসে সময় কাটানোয় রোহিঙ্গারা সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে গভীর রাতে হানা দিয়ে সর্বস্ব ডাকাতি করে নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা।


গত ২৩ আগষ্ট টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া এলাকায় হাজী বশিরের বাড়িতে রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল হানা দেয়। পরে বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হাজী বশিরের পরিবারে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।



কক্সবাজার পিপলস ফোরামের মুখপাত্র এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা দিন দিন নানা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় তারা স্থানীয়দের উপর অত্যাচার শুরু করে দিয়েছে। তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা না হলে, নিকট ভবিষ্যতে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি, অপহরণ, ধর্ষণ, এমনকি খুন পর্যন্ত আছে।


এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মধূরছড়া-২ আশ্রয় শিবিরের হেড মাঝি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘খারাপ মানুষ তো সব জায়গায়ই আছে। তাছাড়া, শরণার্থী শিবিরে অনেকেরই মাথা ঠিক থাকে না।’


পুলিশ সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ৩০টি আশ্রয় শিবির রয়েছে। এরমধ্যে উখিয়ায় ২৩ টি ও টেকনাফে ৭টি। এসব রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যা তুলনামূলক ভাবে খুবই কম। গত মে মাসে রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তার জন্য দুটি আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অদ্যাবধি এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে রোহিঙ্গাদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।



কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের কিছু কিছু আশ্রয় শিবির পাহাড়ের দুর্গম এলাকায়। আশ্রয় শিবিরগুলোতে কোনো ধরণের নিরাপত্তা বেষ্টনি নেই। এ কারণে রাতের বেলায় কে ঢুকছে বা বের হচ্ছে এসব সনাক্ত করা খুবই কঠিন। তারপরও পুলিশ তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


বিবার্তা/মানিক/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com