চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদ উদযাপন
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৩:০৮
চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদ উদযাপন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে আগাম ঈদ। এসব এলাকায় সকালে ঈদুল আযহার নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করা হয়।


মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, চাদপুর লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ছাড়াও কয়েকটি জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হচ্ছে। পাড়া মহল্লার পাশাপাশি ঈদের জামাত হয়েছে বিভিন্ন ঈদগাহ ও ময়দানে।


চট্টগ্রাম: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার অর্ধশত গ্রামে ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। দেশে প্রচলিত নিয়মের এক দিন আগেই মঙ্গলবার এসব গ্রামের প্রায় দুহাজার পরিবার আগাম ঈদ উদযাপন করছেন।


আগাম ঈদের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সাতকানিয়ার মীর্জারখীল জাহাঙ্গীর পীরের দরবার শরিফে।


দরবারের সাজ্জাদানশীন মাওলানা আবদুল হামিদ শাহের ইমামতিতে ঈদুল আজহার প্রথম জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন দরবারের আরেক সাজ্জাদানশীন মাওলানা মাকসুদুর রহমান।


এছাড়া চন্দনাইশের জাহাঁগিরিয়া মমতাজিয়া দরবারে ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মমতাজিয়া দরবারের সাজ্জাদানশীন আল্লামা শাহ্সুফি সৈয়্যদ মোহাম্মদ আলী। সকাল ৯টার দিকে সেখানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গরু, মহিষ, ছাগলসহ পশু কোরবানি দেন আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব এলাকায় সামর্থ্যবান লোকজন।


চট্টগ্রামে এবার সাতকানিয়া উপজেলার মীর্জারখীল, চরতি, সুইপুর, গাটিয়াডাঙ্গা ও কেরাণীহাট, পটিয়া উপজেলার কালারপোল, হাইদগাঁও, মলপাড়া ও বাহুলী, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, গাছবাড়িয়া, হারালা, বাইনজুড়ী, কানাইমাদারি ও ঢেমশা, আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ, বুরুমছড়া, বারখাইন, সরকারহাট, গহিরা ও বারশত, বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ, পূর্ব গোমদণ্ডী ও পশ্চিম কধুরখীল, বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর, চাম্বল, শেখেরখীল, পুঁইয়াছড়া ও ডোমার এবং লোহাগাড়ার ধর্মপুর ও কলাউজানসহ বিভিন্ন গ্রামে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।


সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় আগাম ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। ঈদ উদযাপন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।


লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের ১০টি গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হচ্ছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে আল্লাহর রাহে সাধ্যমত পশু কোরবানি করেন আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা।


রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলার ১০টি গ্রামে মঙ্গলবার ঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে। রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার বামনী ইউপির কলাকোপা জালাল ডাক্তারের বাড়ি ও সদর উপজেলার বশিকপুরসহ ১০টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধীক মুসল্লী আজ ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন।


সকাল ৭টায় খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া রামগঞ্জ উপজেলা শাখার ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. মনিরুল ইসলাম মজুমদার।


শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। দরবার শরিফের দুটি অংশে দুটি ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় দরবার শরিফ মাঠে ও সকাল ১০টায় আলহাজ খাজা শাহসুফি সৈয়দ নুরে আক্তার হোসাইন আহাম্মদী নুরী মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয়।


সুরেশ্বর ও পাশবর্তি আরো দশটি গ্রামের মানুষ এ ঈদের নামজে অংশ নেয়। সুরেশ্বর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ১০টি গ্রামের মানুষ ঈদুল আজহা পালন করছেন।


বরিশাল: সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকহাজার পরিবার মঙ্গলবার আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানি করছে যথা নিয়মে।


বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে তাজকাঠি জাহাঁগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। জামাতে ইমামতি কররেন মওলানা মো. দেলোয়ার হোসাইন।


পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর নিশানবাড়িয়া, বাউফলের মদনপুরা, বগা, জৌতা, শাবুপুরা, ঝিলনা, কাছিপাড়া, গলাচিপা উপজেলার ডাউকা, কলাপাড়া উপজেলার ছয়টি গ্রামসহ বেশকিছু এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ঝালকাঠিতে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


চাদপুর: সাদ্রা দরবার কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় এক শতাব্দী ধরে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের মুসলমানরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলো পালন করে আসছে।


হাজীগঞ্জ উপজেলার বড় কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা হামিদিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবু ইছহাক ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন।ইছহাকের মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছে।


জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার ৪০টি গ্রামে প্রায় ৮৭ বছর ধরে এভাবে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।


ইছহাকের বড় ছেলে ও সাদ্রা গ্রামের গদিনসীন পীর আবু যোফার আবদুল হাই বির্বাতাকে বলেন, মঙ্গলবার সাদ্রা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ঈদুল আযহার নামাজ পড়া হয়েছে।


হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, বেলঁচো, জাঁকনি, প্রতাপপুর, গোবিন্দপুর, দক্ষিণ বলাখাল। ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেনাগাঁও, বাশারা উভারামপুর, উটতলী, মুন্সিরহাট, মূলপাড়া, বদরপুর, পাইকপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতাড়া, নুরপুর, শাচনমেঘ, ষোল্লা, হাঁসা ও চরদুখিয়া। মতলব দক্ষিণ উপজেলার দশআনী, মোহনপুর, পাঁচআনী এবং কচুয়া উপজেলার উজানি গ্রামবাসী আজ ঈদ উদযাপন করছেন।


বিবার্তা/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com