আ.লীগ নেতা হত্যার বিচার নিয়ে সংশয় পরিবারের
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫৩
আ.লীগ নেতা হত্যার বিচার নিয়ে সংশয় পরিবারের
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান শেখ লতিফুর রহমান পলাশ হত্যা মামলাটি সাড়ে ৫ মাসেও অভিযোগ পত্র জমা না দেয়ায় মামলার বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মামলার বাদি ও নিহতের বড় ভাই সাইফুর রহমান হিলু।


তিনি অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আমাকে ও মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের লোকসহ এলাকাবাসী। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে তারা।


২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পলাশকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ইউপি নির্বাচনের জের, রাজনৈতিক ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধের জের ধরে তিনি খুন হন।


হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হিলু বাদি হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে লোহাগড়ায় থানায় মামলা দায়ের করেন।


এ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কুমড়ি গ্রামের শরীফ মুনীর হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক দিঘলিয়া ইউপি নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রাথী মাসুদুজ্জামান, দিঘলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহম্মেদ মাসুম, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর সরদার, হত্যাসহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামি সোহেল খানসহ ১৫ জন।


ঘটনার পর তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয় এবং আটজন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছে। এছাড়া চার আসামি এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ। এসব আসামিরা বাদিসহ সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।


পলাশ এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ী হন।
কুমড়ি গ্রামের মোজাহার সরদার বলেন, পলাশ চেয়ারম্যান ছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের চোখের মনি। সকলের বিপদের সময় পাশে থাকতেন তিনি। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানান তিনি। আসামিরা তাদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


পলাশের স্ত্রী ও ওই ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নীনা ইয়াছমিন বলেন, জনপ্রিয় চেয়ারম্যান পলাশকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হলেও সাড়ে ৫ মাসে সব আসাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় বাকী আসামিদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।


পলাশ হত্যা মামলার বাদী হিলু বলেন, সাড়ে ৫ মাস অতিবাহিত হলেও মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নেয়ার জন্য চিঠি আসলেও সেখানে স্থানান্তর করা হয়নি। এই হত্যা মামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেয়ার চেষ্টা চলছে এবং মামলাটিকে দুর্বল করতে নাটক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরো বলেন, আসামিরা জামিনে বের হয়ে আমাকেসহ সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, আলামত উদ্ধার ও মামলার তদন্ত কাজ শেষ হলেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে। চার আসামি পলাতক থাকায় গ্রেফতার সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন তনি।


আসামিরা বাদিসহ সাক্ষীদের ভয়-ভীতির বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।


বিবার্তা/শরিফুল/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com