কেমন আছে হলি আর্টিসানে নিহত ওসি সালাউদ্দীনের পরিবার
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৮, ১২:৩০
কেমন আছে হলি আর্টিসানে নিহত ওসি সালাউদ্দীনের পরিবার
এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ
প্রিন্ট অ-অ+

পীড়াদায়ক সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি ভুলে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে ওসি সালাউদ্দীনের পরিবার। বহমান সময়ের স্রোতে ওই স্মৃতি ভুলে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক তারা। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলায় নিহত হন ওসি সালাউদ্দীন লুই। তিনি ওই সময় রাজধানীর বনানী থানায় কর্মরত ছিলেন।


রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসানে ২০১৬ সালের ১ জুলাই ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আতঙ্ক ও শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা জাতি। ভয়াবহ ওই হামলার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ রবিবার।


সালাউদ্দিনকে গোপালগঞ্জের মানুষ লুই নামে বেশি চিনে। একজন ভালো, পরোপকারী মানুষ হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি। সেই মানুষটি এতো তাড়াতাড়ি সবাইকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবে তা যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার স্ত্রী আর দুই মেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।


লুইয়ের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী খান বলেন, হামলার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে আর ভালো লাগে না। এ নিয়ে কথা বলতে আপত্তি নেই। যদিও বারবার ওই দুর্বিষহ সময়টাকে স্মরণ আসলেই প্রচণ্ড পীড়াদায়ক। ওই দিনটি আমরা মনে করতে চাই না। মর্মান্তিক ওই হামলার ধকল কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।


তিনি আরো বলেন, আমার ভাই নিরীহ মানুষ বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তিনি আমাদের কাছে বাবার সমতুল্য ছিলেন। আমাদের সব ভালো মন্দই তিনি দেখতেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।


লুইয়ের প্রতিবেশী ও গোপালগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে আর ভালো লাগে না। ওই দিনটি আমরা মনে করতে চাই না। ওই স্মৃতি খুবই পীড়াদায়ক। দিনটি মনে করলে এখনো মানসিকভাবে ঠিক থাকতে পারি না।


তিনি আরো বলেন, ওসি লুই একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। আর এ কারণেই তাকে অকালে জীবন দিতে হয়েছে। এ জন্য শুধু গোপালগঞ্জ শহর নয়, সারা জেলাবাসী শোকে কাতর। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছি।


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু বলেন, লুই একজন চৌকস ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। মানুষের বিপদ-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ও তাদের মদদ দাতাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি করছি।


লুইয়ের বাবার নাম আব্দুল মান্নান খান। তিনি গোপালগঞ্জ এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সাত ভাই চার বোনের মধ্যে লুই ছিলেন পঞ্চম।


বিবার্তা/শিমুল/জাকিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com