বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজার শহর প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৮, ১৯:৪৯
বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজার শহর প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
তানভীর আঞ্জুম আরিফ, মৌলভীবাজার
প্রিন্ট অ-অ+

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের মনু নদের পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে উজানের পানি এসে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে আঘাত হানছে। ফলে মূল শহর ও তার আশপাশের অন্তত ২০টি স্থানে বাঁধ চুঁইয়ে পানি বের হচ্ছে। এমতাবস্থায় পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে আরেকটু বাড়লে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পানি ঢুকতে করতে পারে।


সরেজমিনে শুক্রবার (১৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম এ সড়কের ৩ ফুট উপর স্তরে প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেতরে পানি প্রবাহিত হয়েছে। শহরের এম সাইফুর রহমান রোডে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের ১৬টি স্থান দিয়ে চুঁইয়ে শহরে পানি ঢুকছে। ফলে সকাল থেকেই শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে যান চলাচল জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


এরই মধ্যে নদের নিকটবর্তী কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে দোকানের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থার মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত তাদের মধ্যে আরো ভয় তৈরি করেছে।


এম সাইফুর রহমান রোডের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা বিবার্তাকে জানান, প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর এই রোডে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ অনেক পুরনো স্থাপনা। নদীর পানি আর বাড়তে থাকলে যেকোনো সময় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


খেয়াঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মাদক লাল রায় বিবার্তাকে জানান, পানি একটু একটু করে নদ থেকে রাস্থায় গড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের দোকানে ঢুকছে। বাঁধ ভেঙে গেলে সারা শহর ডুবে যাবে।


স্টাইল পয়েন্টের সত্ত্বাধিকারী তপন দাস জানান, ২ দিন ধরে বাঁধ চুঁইয়ে পানি বের হচ্ছে। আজ সন্ধ্যার পর থেকে ব্যাপক হারে শহরে পানি প্রবেশ করছে। পানির স্থর শহরের অনেক উপরে রয়েছে। অনেক পুরাতন বাঁধ এটি। সুতরাং কখন কী হয় বলা মুশকিল।



একই রোডের ব্যবসায়ী জাহেদ হোসেন জানান, বাঁধের পাশেই আমার বসতঘর। ঘরের ভেতর বিকেল পর্যন্ত হাঁটু পানি ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে হু হু করে পানি বেড়ে কোমর পর্যন্ত হয়েছে। গত ১০ বছরে এরকম পানি হয়নি।


এদিকে, উজানের পানি নিচ দিয়ে দ্র্রুত বেগে নামার ফলে শহর ও শহরতলীর আরো ৮টির বেশি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সব থেকে ঝুঁকিতে রয়েছে সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট, দুর্লভপুর ও কসবা এলাকা।


এছাড়া উপজেলার কামালপুর থেকে মোমরুজপুর পর্যন্ত কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদনীঘাট থেকে মনুব্যারেজ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর অবস্থিত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী। এই এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নিচ দিকে অনেকাংশ দেবে গেছে। স্থানীয়রা বাঁধটি টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা কসবা এলাকায়। স্থানীয়রা রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে মনু নদে সর্বোচ্চ বিপদসীমা ১৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড হয়েছে। যা বিগত ১১ বছরের সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ ছিল। তবে শহরের অংশে পানি কম ছিল। মনুর কয়েকটি ভাঙন দিয়ে পানি গ্রামাঞ্চল প্রবাহিত হওয়ার পর সে পানি পুনরায় নদে পড়ছে। ফলে নদীর পানি উজান থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলে প্রভাব ফেলছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বিবার্তাকে জানান, রাত ১০টা থেকে সকাল পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ১৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সাইফুর রহমান রোডের গার্ড ওয়াল পুরাতন হওয়াতে বিভিন্ন ফাঁক দিয়ে পানি ঢুকছে।



ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ৩ আসনের সাংসদ ও প্যানেল স্পিকার সৈয়দা সায়রা মহসনি এমপি, জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, পৌর মেয়র ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি আরো বাড়লে শহর রক্ষায় বিকল্প কিছু ভাবা হবে বলে জানান তারা।


বিবার্তা/আরিফ/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com