টানা বৃষ্টিতে ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন, বন্যার আশঙ্কা
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০২:৫৫
টানা বৃষ্টিতে ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন, বন্যার আশঙ্কা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাথে সাথে কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানিও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


ধলাই নদীর ২টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে আরো বেশি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


নিম্নচাপের কারণে গত দু’দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির ফলে মঙ্গলবার ভোর থেকে মনু ও ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে শরীফপুর ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন মনু সেতু এলাকায় পানি বিপদ সীমার ২৫ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের পানির আঘাতে মনু সেতু সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতেও শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে।


মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জের ধলই সেতু এলাকায় ধলাই নদের পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।


কমলগঞ্জে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল বিবার্তাকে জানান, এখানে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২৫ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ও এতে ধলাই নদীতে আরো পানি বেড়ে যাবে।


মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। দ্রুত গতিতে পানি বেড়েই চলেছে।


কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ এ ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বিবার্তাকে জানান, বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করার কারণে গ্রামের আড়াই’শ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।


অপরদিকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রায় ১০০ ফুট এলাকার একটি নতুন ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। এ ভাঙ্গনে ধলাই নদেও পানি দ্রুত গতিতে গ্রামে ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। ফলে সুরানন্দপুর গ্রামে নতুন করে আরো ২৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রামে ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।


এ পানি আরো দুটি ইউনিয়নের কম পক্ষে ১০টি গ্রামকে প্লাবিত করবে। দুটি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার সড়কের করিমপুর ও সুরানন্দপুর এলাকা ২ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়।


কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, ইসলামপুর কমলগঞ্জ সদর ও আদমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি এলাকায় ধলাই নদীর পুরানো ভাঙন দিয়ে পানি বের হচ্ছে।


কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় সুরানন্দপুর নতুন ভাঙ্গন এলাকা ও করিমপুর এলাকা পরিদর্শণ করেছেন।


পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বিবার্তাকে জানান, ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৩৮ সে. মি. ও চাতলাপুর সেতু এলাকায় মনু নদী বিপদ সীমার ৮০ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


তিনি বলেন, কোনো বরাদ্ধ না থাকার পরও নিজ দায়িত্বে এই দুটি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধে ইতিপূর্বে প্রায় ৮ কোটি টাকারও বেশি সংস্কার কাজ করেছিলেন। দুটি নদীই পাহাড়ি খরস্রোতা বলেই এখানে পানির স্রোতোর আঘাত বেশি হয়। এজন্য প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়।


বিবার্তা/আরিফ/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com