থামছেই না নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ের অপহরণ বাণিজ্য
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:১৫
থামছেই না নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ের অপহরণ বাণিজ্য
বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ির দূর্গম এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে আসা ব্যাক্তিরা
তৌহিদ সোহান ও আবুল বশর নয়ন, বান্দরবান
প্রিন্ট অ-অ+

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে কোনোভাবেই থামছে না অপহরণ বানিজ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মাঝেও অপহরণের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।


এ যাবৎ অপহরণকারী চক্রটির জালে আটকা পড়েছে ব্যবসায়ী, ধনী পরিবারের স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তান, কৃষক, গাড়ি চালকসহ অনেকে। অপহরণ চক্রটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চিহ্নিত করলেও সহজেই তাদের হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছেনা। এতে করে মানুষের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। তবে পুলিশ বলছে, অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।


সূত্র মতে - চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঈদগাও, ঈদগড়, নাপিতখালী, কালিরছড়া, কাউয়ারখোপ, করলিয়ামুরা, বাইশারী, বড়বিল-থোয়াঙ্গাকাটা কেন্দ্রীক অন্তত শতাধিক সদস্যের একটি অপহরণকারী চক্র বিশেষ করে বাইশারী-দোছড়ি ও ঈদগড় এলাকা থেকে অপহরণ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।


এছাড়াও এ চক্রটি মাঝেমধ্যে কৌশল পাল্টিয়ে অপহরণ ও জিম্মী করার উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে চাহিদামত মুক্তিপন আদায় করে থাকে। এভাবে গত এক বছরে কোটি টাকার উপর মুক্তিপণ আদায় করেছে অপহরণকারী সিন্ডিকেটটি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইতোপূর্বে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পাওয়া এক ব্যাক্তি জানান, অপহরণকারী চক্রটির সাথে স্থানীয় লোকজন জড়িত থাকায় প্রশাসন তাদেরকে আটক করতে ব্যার্থ হয়। এছাড়াও জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকে প্রকৃত অপহরণের ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করেনা।


তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১১ অক্টোবর বাইশারী ইউনিয়নের ব্যাঙডেবা এলাকা থেকে ইউনুছ, করিম, আবু বক্করকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ২০১৪ সালের ১৯ আগষ্ট লম্বাবিল এলাকা থেকে হাফেজ রশিদ উল্লাহ, ২০১৬ সালের ১ মে দোছড়ি ইউনিয়নের ওয়াচ্ছাখালি থেকে বুলবুল আক্তার (১১), ১২ আগষ্ট বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি থেকে মিজানুর রহমান, একই মাসে দোছড়ি ইউনিয়নে লংগদু থেকে ফরিদুল আলম, হুমায়ুন কবির, বড়ইচর এলাকা থেকে জালাল উদ্দিন, আবদুল কাদের, ২৩ অক্টোবর পিএইচপি রাবার বাগানের ৮নং ব্লক থেকে আজিজুল হক, নুরুল আলম, আবদু শুক্কুর, ২৪ আগষ্ট বাইশারী-ঈদগড় সড়কে রাশেদ, নেজাম উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, ৪ ফেব্রুয়ারি বাইশারী ইউনিয়নের লেদুরমুখ থেকে ছালেহ আহামদ ও রাজিব, ৩০ এপ্রিল বাইশারী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি চাইল্যাতলী থেকে শাহজালাল, ৫ মে ঈদগড় বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে রাঙ্গা ঝিরি যাওয়ার পথে মিজানুর রহমান, ২১ নভেম্বর ঘুমধুম জামতলী পাড়া থেকে হোছন, নুরুল আজিম, ২১ নভেম্বর বাকখালী মৌজার ছাগলখাইয়া থেকে নুরুল আজিম, মো: হোছন, ও কাগজিখোলা থেকে ছৈয়দ বাবর (৩০), চলতি বছর ২০ জানুয়ারি লেদুখাল এলাকা থেকে আবদুর রহিম, আবু ছৈয়দ, আবদুল আজিজ, শাহ আলম এবং সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল দোছড়ি লংগদুর মুখ থেকে সাইফুল ইসলামসহ অন্তত শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দাকে অপহরণপূর্বক মুক্তিপন আদায় করেছে এ সিন্ডিকেটটি।


অনেক সময় অপহরণকারীদের কবলে পড়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত না করে প্রাণভয়ে মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পান অপহৃতরা। অপহরণকারী চক্রটি কাউকে অপহরণের পর নিজেদের ফোন ব্যবহার না করে ভিকটিমের মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। ফলে অপহরণকারীদের চিহ্নিত করতে কঠিন হয়ে পড়ে পুলিশের।


এ প্রসঙ্গে বাইশারীতে অপহৃতদের উদ্ধারে একাধিক অভিযানে অংশ নেয়া এসআই আবু মূসা জানান, তিনি যোগদান করার পর বাইশারীতে তেমন অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। তবে চিহ্নিত অনেক অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। পাহাড়ের ভৌগলিকগত কারণে অপহরণকারীদের আটক করতে সত্যিকারার্থে হিমশিম খেতে হয়। তারপরেও বিভিন্ন বাধা উপক্ষো করে বাইশারী ও ঈদগড় অঞ্চলে চিহ্নিত অপহরণকারীদের তালিকা তৈরী করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।


বিবার্তা/নয়ন/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com