জয়পুরহাটের আলু রফতানি হচ্ছে ১০ দেশে
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৪১
জয়পুরহাটের আলু রফতানি হচ্ছে ১০ দেশে
শামীম কাদির, জয়পুরহাট
প্রিন্ট অ-অ+

গুণগত মান ভালো হওয়ায় জয়পুরহাট জেলার উৎপাদিত আলু মধ্যপ্রাচ্যসহ ১০টি দেশে রফতানি হচ্ছে।


এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি এলাকার যুবকদের বেকারত্ব দূর হচ্ছে। জয়পুরহাটে গত তিন বছর লোকসানের পর এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা এখন বেশ খোশ মেজাজে।


বিদেশে আলু পাঠানোর ফলে বিভিন্ন জাতের আলুর চাহিদা বেড়েছে বলে জানান কৃষকরা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, নেপাল, জাপান ও রাশিয়া এই ১০টি দেশে বাংলাদেশের আলু রফতানি হচ্ছে।


জয়পুরহাট জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাড়ে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে লাল পাকরী, সাদা পাকরী, জাম, রোমানা, ডায়ামন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানোলা, এ্যারিস্টিকসহ বেশ কয়েকটি দেশী-বিদেশি জাতের আলু চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে আট লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়ে লক্ষমাত্রাও অর্জিত হয়েছে।


আলু চাষী ও আলু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ৫টি উপজেলার ৩০ থেকে ৩৫টি বাজার থেকে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ মন গ্রানোলা, রোজেটা ও এ্যারিস্টিকসহ বিভিন্ন জাতের আলু বিদেশে পাঠানোর জন্য ক্রয় করা হচ্ছে। এতে ভাল দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন আলু চাষীরা।



আক্কেলপুর উপজেলার মাতাপুর গ্রামের আলুচাষী হান্নান মন্ডল জানান, এবারে তিনি ৬০ শতক জমিতে গ্রানোলা জাতের আলু চাষ করেন। এতে সবমিলে তার উৎপাদন খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। প্রতি শতকে ৩ মণ হারে তিনি মোট আলু পেয়েছেন ১৮০ মণ। ২৭০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করে সব খরচ বাদে তার লাভ টিকেছে অন্তত ২৮ হাজার টাকা।


কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের আলুচাষী গোলাম রব্বানী জানান, তার ১৮ বিঘা জমিতে রোজেটা, এ্যারিস্টিক ও গ্রানোলা জাতের আলু চাষ করতে গড়ে বিঘা প্রতি তার উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার টাকা, ফলন পেয়েছেন ৯৯ মণ, ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি করে লাভ হয়েছে অন্তত ৪ লাখ টাকা।


চট্টগ্রামের ‘আলাই’ কোম্পানির সুপারভাইজার আনিস জানান, কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন তাকে ৯ মেট্রিক টন আলু কিনে দিতে হয়। এভাবে চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত যে পরিমাণ আলু প্রয়োজন তা তাকে কিনতে হবে। সে হিসেব মাথায় রেখে তিনি আলু ক্রয় করছেন। স্থানীয় বাজার থেকে মানসম্মত এসব আলু ক্রয় করে তা বিদেশে রফতানি করা হবে।


জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। আলু বিদেশে রফতানি হওয়ায় ভাল দাম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে চাষীরা লাভবান হচ্ছেন। আবার বিদেশে আলু রফতানি হওয়ায় বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানেরও সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের আলু বাজারের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জল হবে বলেও তিনি আশা করেন।


বিবার্তা/শামীম/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com