ভাষা সৈনিক সুমন্ত বসাকের খোঁজ নেয় না কেউ!
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৪:২৫
ভাষা সৈনিক সুমন্ত বসাকের খোঁজ নেয় না কেউ!
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও অবহেলিত জয়পুরহাটের ভাষা সৈনিক ও প্রবীন শিক্ষক সুমন্ত কুমার বসাক। মাতৃভাষার জন্য তার নেতৃত্ব ও তার অনুসারীদের অবদান মূল্যায়ন করেনি কেউ।


বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন আক্কেলপুর উপজেলার প্রত্যন্ত রায়কালি গ্রামে ভাষা সৈনিক সুমন্ত কুমার বসাক। এখন তার জীবনী শক্তি কেবল ভাষা আন্দোলনের সেই সময়ের সংগ্রামী গানগুলো। কুশলাদি জিজ্ঞেসের এক পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনের কথা বলতেই বার্ধক্যের কণ্ঠ যেন প্রান ফিরে পায়! অকাতরে গেয়ে ওঠেন, “রফিক, জব্বার, বরকতের রক্তে লেখা বাংলা ভাষার নাম.........।”


গান শেষে তিনি বলেন, সে সময়ের কথা মনে হলে এখনো শিউরে উঠি, ঢাকা থেকে সংগ্রামের আহবান এলো, তখন বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র আমি। সে সময় বগুড়ার ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট গাজিউল হকসহ আমরা বেশ কয়েকজন তরুণ রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে বগুড়ার রাজপথে মিছিল, মিটিং, হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি।


পার্শ্ববর্তী কাশিরা গ্রামের আব্দুস সামাদ তালুকদার (৮০), রায়কালী গ্রামের নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত (৮৫) ও সুমন্ত বসাকের স্ত্রী নিশা রানী (৮২) জানান, এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২২ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্ম নেন সুমন্ত কুমার বসাক। চঞ্চল প্রকৃতির এই মানুষটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানীসহ তৎকালীন সংগ্রামী নেতৃবৃন্দের সান্নিধ্যে থেকে ১৯৫২ সালে যোগ দেন ভাষা আন্দোলনে।


সে সময় তার নেতৃত্বে আন্দোলন আরো বেগবান হলে সরকার তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। তখন ফেরারী হন তিনি এবং এ কারণে ওই বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিতে পারেননি বসাক। পরের বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় রায়কালী গ্রামে নব গঠিত উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।


৪ ছেলে ও ১ মেয়ে যে যার কর্মে নিয়োজিত হলেও নিজের বাপের ভিটা ছেড়ে কোথাও যেতে চান না সুমন্ত বসাক। ভাষা আন্দোলেনের স্মৃতি বুকে ধারণ করে এখনো বেঁচে আছেন। রোগে শোকে আক্রান্ত বসাক এখন অনেকটাই উপেক্ষিত বলে জানান এলাকাবাসী।


মহান ভাষা আন্দোলনের এক সময়ের ক্ষিপ্র সৈনিক সুমন্ত কুমার বসাক আক্ষেপের সাথে বলেন, কত রক্তের বিনিময়ে, এত ত্যাগ স্বীকার করে অর্জিত বাংলা ভাষা চর্চায় এখন যান্ত্রিক সভ্যতা আর স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগ্রাসনে ভাটা পরে যাচ্ছে। তাদের কেউ কোনো খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয় না এমন আক্ষেপ করে তিনি বলেন, পরন্ত বেলায় আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, এক সময় আমি বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য পেয়েছি, তাই শেষ বারের মত বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বচক্ষে দেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই।


এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোকাম্মেল হককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ভাষা সৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া হবে।


উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলন পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রায়কালি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করে ১৯৯১ সালে অবসরে যান সুমন্ত কুমার বসাক।


বিবার্তা/শামীম/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com