আরসার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন: বলির পাঠা রোহিঙ্গা জাতি
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৩২
আরসার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন: বলির পাঠা রোহিঙ্গা জাতি
মো. আবুল বশর নয়ন, বান্দরবান
প্রিন্ট অ-অ+

মৃত্যু উপত্যাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার নাম রোহিঙ্গা স্যালভেশন পার্টি (ন্যায়ের যুদ্ধ) বা হারাকাহ আল ইয়াকিন (বিশ্বাস আন্দোলন)। কথিত সংগঠনের নাম শুনেছেন। তবে প্রকৃত পক্ষে এমন কোন সংগঠনের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা প্রশ্ন তুলেছেন আরাকান থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের কথা ছড়িয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগকালে দুর্দিনে নিজেরাই গায়েব হয়ে যাওয়ায় এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রোহিঙ্গা বস্তী এলাকায়।


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও ঘুমধুম সীমান্তে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১২ সালে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকারসহ মানবাধিকার হরণ পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরই আর্বিভাব ঘটে আল ইয়াকিনের। সে সময় এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাফেজ আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনানী। কিন্তু ২০১৬ সালে এসে সংগঠনটি নিজেদের নাম পাল্টিয়ে আরসা বা রোহিঙ্গা স্যালভেশন পাটি নামকরণ করে। ফলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অনেকেই আরসা নামের সাথে পরিচিত নন। তবে আল ইয়াকিন বললে অনায়াশেই তারা বুঝতে পারেন।


সীমান্তর জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া উঠতি বয়সী যুবক জুহুরুল আলম, জামাল হোছেন, ছৈয়দ নুরসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের দাবী, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন এবং অধিকার আদায়ের জন্য আরসার আমীর (দলনেতা) দ্বারা সংগঠিত হয়েছিলেন তারা। প্রতিটি গ্রামে তাদের মত ১৫-২০ সদস্যের ইউনিটি ছিল। সমাজের নানা অনিয়ম, বিচার আচার তাদের মাধ্যমেই সম্পাদনসহ আরসার আদর্শ তারা লালন করতো। আরসা সংগঠনটি আর্বিভাব হওয়ার পর তাদের মত আরাকানের শিক্ষা বঞ্চিত রোহিঙ্গাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু আতাউল্লাহর সাথে কখনো দেখা মেলেনি তাদের।


জানা গেছে, ১৯৪২ সালের পর থেকেই রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবস্থান নিয়ে কখনো আরএসও, আবার কখনো এআরএনও, আরপিএফসহ বিভিন্ন শক্তিশালী সংগঠন রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে আন্দোলন করেছে। সে সময় কোন সফলতা আসেনি। কিন্তু হঠাৎ করে আর্বিভূত ঢাল তলোয়ারবিহীন আরসার কর্মকাণ্ড নিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে বলিরপাঠা হয়েছেন রোহিঙ্গাজাতি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, আরসার লক্ষ্য মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গাদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক মুসলিম রাজ্য’ প্রতিষ্ঠা। বিদেশী ইসলামী দলগুলোর সাথে আরসার সংযোগের কোনো শক্ত প্রমাণ না থাকলেও বর্মী সরকার সন্দেহ করছে যে দলটি বিদেশী ইসলামী আন্দোলনকারীদের সাথে যুক্ত এবং তাদের সাহায্যপুষ্ট। আবার অনেকে বলছেন, আরসা মিয়ানমার সরকারের সৃষ্টি। আরাকান থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়নের জন্যই অজুহাত তৈরী করে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।


উল্লেখ্য, আরসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত চৌকিতে হামলায় ৯ জন সীমান্ত কর্মকর্তা এবং ৪ জন সৈনিক মারা যায়। ২৫ আগস্ট ২০১৭ ইং দলটি উত্তর মংডু এলাকায় পুলিশ ফাঁড়িতে এবং সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়। ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট আরসা এবং তাতামাদাওয়ের মধ্যে লড়াই ছড়িয়ে পড়লে ৪ হাজার রাখাইন তাদের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। ২০১৭ এর আগস্ট মাসে আরসা হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে ১২ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করে। তাদের অনেককে সরকারি গুপ্তচর হিসেবে পরিচিত।


বিবার্তা/নয়ন/ইমদাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com