নাজিরপুরে কোটি টাকার সরকারি জমি বেদখলে
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪, ১৮:০৫
নাজিরপুরে কোটি টাকার সরকারি জমি বেদখলে
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরের সরকারি খাদ্য গুদামের কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাশালী নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রী ও তার পরিবার।


সরকারি খাদ্য গুদামের একটি পাকা কক্ষ ও তার পার্শ্ববর্তী প্রায় ২৫ শতাংশ জমি জোর করে দখল করে গত কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন ওই পরিবারটি।


সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরের দক্ষিণ মাথায় থাকা খাদ্য গুদামের প্রধান ভবনের পশ্চিম পাশের এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এলএসডি ফুড গোডাউন এর গার্ড রুম, বাথরুম দখল করে আছেন। এছাড়া তার পার্শ্ববর্তী প্রায় ২৫ শতাংশ জমি দখল করে তৈরি করছেন অর্ধপাকা টিনের ঘর।


এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বেপারী জানান, নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রী গত প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রভাব খাটিয়ে জোর করে সরকারি জমিটি দখল করে আছেন।


এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন মিয়া বলেন, এলজিইডির প্রতিষ্ঠালগ্নে খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণসহ উন্নয়ন কাজ করা হয়েছিল। এজন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত গম/চাল সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রকল্প চলমান উপজেলা সমূহে এলজিইডি ফুড গোডাউন নির্মাণ করেন। আশির দশকের দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরে ওই গোডাউন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই কর্মসূচির পরিবর্তে দরপত্র প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় গোডাউন পরিত্যক্ত থাকায় ভবনটি বিএডিসি কর্তৃপক্ষের নিকট লিজ হিসাবে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ সেখানের এক অংশে বীজ ও কৃষি ঔষধ রাখার গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন।


আর এক অংশ স্থানীয় নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে দখল করে আছেন। তাকে ওই জমি ও স্থাপনার দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নোটিশ দেয়া হলেও তিনি তা ছাড়ছেন না। কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, তিনি ভূমি অফিসের মাধ্যমে ওই জমি একসনা লিজ হিসাবে ভোগ করছেন। তিনি কোনো সরকারি জমি দখল করেন নাই।


তবে উপজেলা ভূমি অফিস জানান, নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রিকে একসনা ডিসিআর দেওয়ার কোন তথ্য উপজেলা ভূমি অফিসে কাছে নাই।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/তাওহিদুল/রোমেল/লিমন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com