জঙ্গি আরিফের ফাঁসি কার্যকর
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৬, ২৩:২১
জঙ্গি আরিফের ফাঁসি কার্যকর
খুলনা ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ১০টায়খুলনা কারাগারে এ রায় কার্যকর করা হয়।বাগেরহাটের দুই বিচারক হত্যা মামলার সর্বশেষ আসামি ছিল আরিফ।


ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন, খুলনা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আলম, খুলনা সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেল সুপার কামরুল ইসলাম প্রমুখ।


ফাঁসিকে কেন্দ্র করে খুলনা কারা কর্তৃপক্ষ দুই দিন আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিরাপত্তার জন্য রবিবার সকাল থেকেই কারাগারের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।


অস্ত্রধারী পুলিশ মোতায়েন করা হয় কারাগারের আশপাশের এলাকায়। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


খুলনা কারাগার সূত্র জানায়, জঙ্গি নেতা আসাদুল ইসলাম আরিফ ২০০৮ সাল থেকে খুলনা জেলা কারাগারে ছিল। ২০০৬ সালের ২৯ মে দুই বিচারক হত্যা মামলার রায়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহম্মেদ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন, খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ফারুক ও আসাদুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।


খুলনা কারাগারের জেলার ফরহাদ জানান, বেলা ১২টার দিকে আরিফের স্ত্রী, দুই মেয়েসহ পরিবারের ১২ জন সদস্য আরিফের সঙ্গে জেল খানায় সাক্ষাৎ করেন। তারা সেখানে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান করেন।


আদালত সূত্র জানায়, ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায়নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) আসাদুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।


চলতি বছরের ২৮ আগস্ট রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আরিফের করা আবেদন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে আরিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকে না।


রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসকে সাহা।


প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর সকালে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতে যাওয়ার পথে দুই বিচারককে বহনকারী মাইক্রোবাসে বোমা হামলা করে জ্যেষ্ঠ বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদকে হত্যা করে জঙ্গিরা।


অন্যদিকে, ঝালকাঠিতে দুই জ্যেষ্ঠ বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদ হত্যা মামলায় আরিফসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। ইতোমধ্যে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।


মামলায় যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে তারা হলো, জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন, খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ফারুক।


২০০৭ সালের ২৯ মার্চ শীর্ষ এই ছয় জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।


বিবার্তা/রোকন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com