মাছ ধরার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক স্কুলে পড়ছে গোলাম রসূল
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:৫৪
মাছ ধরার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক স্কুলে পড়ছে গোলাম রসূল
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সাসের উপানুষ্ঠানিক স্কুলের শিক্ষার্থী মারিয়া (১০), তার পিতা বালিয়া গ্রামের রাজ্জাক গাজী ও মাতা আসমা বেগম, বছরের ৩/৪ মাস ইটের ভাটায় শ্রমিক হিসাবে বাইরে কাজ করতে যেতে হয়। এতদিন মারিয়া অক্ষরজ্ঞানহীন ছিল। বর্তমানে সেও বালিয়া উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে এখন খবরের কাগজ পড়তে পারে।


আরেক শিক্ষার্থী গোলাম রসূল (১১), সে মাছ ধরা কাজের পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক স্কুলে লেখাপড়া করছে। কাজ করার পাশাপাশি সে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। বালিয়া উপানুষ্ঠানিক স্কুল থেকে পড়াশুনা শেষে আবার মূল স্রোতধারার স্কুলে ফিরে যেতে চাই। ঝরেপড়া ছেলে লেখাপড়ায় ফিরে আসায় দরিদ্র পিতা ইসহাক সরদার ও মাতা তাছলিমা বেগম অনেক খুশি।


বালিয়া বটতলা উপানুষ্ঠানিক স্কুলের শিক্ষক তাছলিমা খাতুন বলেন, রনি, মারিয়া, গোলাম রসূলসহ অনেকেই ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিয়মিত স্কুলে আসছে। লেখাপড়ায়ও যথেষ্ট ভালো তারা। আবার স্কুলে ভর্তি হতে পেরে শিক্ষার্থী গোলাম রসূল অনেক খুশি। সে মাছের ঘেরে আর কাজ করতে চায় না, নিয়মিত স্কুলে যেতে চায়।


সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর জেলা প্রকল্প প্রধান খান মো. শাহ আলম বলেন, ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনাসহ কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকায়ন করায় এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। সাতক্ষীরা জেলার ৬টি উপজেলায় ৪২০টি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে ১২,৬০০ (বার হাজার ছয়শত) জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৭৭টি, তালা,কলারোয়া,ও কালিগঞ্জে ৭০টি করে, আশাশুনিতে ৮৩টি এবং দেবহাটায় ৫০টি স্কুল রয়েছে।


সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা সাস’র নির্বাহী পরিচালক মেখ ইমান আলী জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত দিনে পিএলসিএইচডি বাস্তবায়ন করে সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে, বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো। এবারও স্কুল বহির্ভূত অর্থাৎ ঝরেপড়া শিশুদের সঠিক অক্ষরজ্ঞান প্রদানসহ কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমারাই দেশের ১ম হবো। তিনি আরও বলেন, উপানুষ্ঠানিক অধিদপ্তরের মনিটরিং এ ৬ মাসের বেতন প্রদানসহ ৯৭% উপস্থিতি পেয়ে কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।


তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, এলাকার ঝরেপড়া, শিক্ষা বিমুখ শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সাস । আমি তাদের অনেক স্কুলে সরেজমিন গিয়েছি, নিয়োগ বা প্রশিক্ষনে অংশ নিয়েছি। সাসের উপানুষ্ঠানিক কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলছে।


বিবার্তা/সেলিম/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com