টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার, পেটে মিলল ব্যান্ডেজ
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২২, ০৯:০৭
টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার, পেটে মিলল ব্যান্ডেজ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

রোগীর পেটে টিউমার এমনটায় ধারণা করছেন চিকিৎসক। এই ধারণা থেকেই ওই রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করান চিকিৎসক। সেই আলট্রাসনোগ্রামে আরো নিশ্চিত হন যে এটা টিউমার। তাই রোগীকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। চিকিৎসকের পরামর্শে করা হয় অস্ত্রোপচার। তবে সেই অস্ত্রোপচারে টিউমারের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ‘ব্যান্ডেজ’।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাতে কক্সবাজার শহরের ফুয়াল আল খতিব হাসপাতালের চিকিৎসক শাহ আলম অস্ত্রোপচার করার সময় এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী ওই রোগীর নাম সুফিয়া আকতার (২৮)। তিনি উখিয়ার রত্নপালং ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার জিয়াউদ্দিনের স্ত্রী।


এবিষয়ে সুফিয়ার ভাগনে সাইমুম উদ্দিন নয়ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সাত মাস আগে শহরের বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে সুফিয়া আকতারের সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক তাজিনা শারমিন। ওই সিজারের সময় পেটে ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেন তিনি।


তিনি আরো জানান, তার খালার সিজার করার ১৫ দিন পর নবজাতকও মারা যায়। এরপর দুই মাস আগে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন সুফিয়া। ব্যথা বেড়ে গেলে প্রথমে উখিয়ার কোটবাজারের ওরিয়ন হাসপাতালের চিকিৎসক সামিয়াকে দেখানো হয়। পরে তিনি চিকিৎসক শাহ আলমের কাছে স্থানান্তর করেন।


কিন্তু তারা শাহ আলমকে না দেখিয়ে তাজিনা শারমিনের কাছে নিয়ে যান। তাজিনা শারমিন রক্ত জমাট বেঁধেছে দাবি করে এক মাসের ওষুধ দেন সুফিয়াকে। সেই ওষুধ সেবন করার পরও সুস্থ না হওয়ায় আবারও তাকে দেখানো হয়। এবার তাজিনা শারমিন আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বলেন। পরে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে তিনি সুফিয়াকে জানান পেটে টিউমার হয়েছে, দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে।


কিন্তু তাজিনা শারমিনের প্রতি আস্থা হারিয়ে পরিবার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের ডা. শাহ আলমের কাছে যান। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলম অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে ব্যান্ডেজ বের করেন। ব্যান্ডেজ পচে সুফিয়ার পেটে ইনফেকশন হয়েছে বলে চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন।


এ ঘটনায় চিকিৎসক তাজিনা শারমিন অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন নয়ন।


এ অভিযোগের বিষয়ে তাজিনা শারমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, রোগীর পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। যোগাযোগ করলে অবশ্যই আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতাম।


দুই মাস আগে রক্ত জমাট বেঁধেছে ধারণা করে এক মাসের ওষুধ দেওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তাজিনা উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।


এদিকে সুফিয়ার ভাগনে নয়ন অভিযোগ করে বলেন, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচার করে বের করা ব্যান্ডেজ প্রথমে রোগীর স্বজনদের দেখালেও পরে গায়েব করে ফেলে। তবে ওই সময় তিনি ব্যান্ডেজের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে ব্যান্ডেজটি গণমাধ্যমকে দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


বিবার্তা/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com