একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৬, ২০:২৭
একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ধর্ম যার যার উৎসব সবার- এ কথাটির যথার্থ প্রমাণ মেলে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের পুরনো বাজারে। বাজারটিতে একই আঙিনায়পাশাপাশি অবস্থান করছে পুরনো বাজার জামে মসজিদ ও পুরনো বাজার কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির।


এ ছাড়াও জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম বাজার জামে মসজিদ ও দলগ্রাম কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই উঠানে মসজিদ-মন্দির হলেও উভয় ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে থেকে স্ব স্ব ধর্ম পালন করে আসছে। ধর্ম পালন নিয়ে কখনও কোনো বাক-বিতণ্ডা পর্যন্ত হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।


উভয় ধর্মের মানুষ একই উঠানে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। শুধু নামাজ বা পূজা অর্চনাই নয়, উভয় ধর্মের সকল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছেন এখানকার মানুষ।


দলগ্রামের মুসল্লি আব্বাস আলী বলেন, এখানে ধর্ম নিয়ে নেই কোনো হানাহানি ও মতবিরোধ। শত বছর ধরে এভাবেই পারস্পারিক সহযোগিতায় ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন স্থানীয়রা।


লালমনিরহাট পুরনো বাজার কালীবাড়ি দুর্গা মন্দিরের সভাপতি জীবন কুমার সাহা জানান, ১৮৩৬ সালে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পুরনো বাজার এলাকা অনেকের কাছে কালিবাড়ি নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এরপর মন্দির প্রাঙ্গনে ১৯০০ সালে একটি নামাজ ঘর নির্মিত হয়। এ নামাজ ঘরটিই পরবর্তীতে পুরনো বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে কোনো বিবাদ ও ঝামেলা ছাড়াই সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে দুই ধর্মের মানুষ।


দুর্গাপূজার সময় ঢাক ঢোল ও বাদ্য যন্ত্র বাজানো নিয়ে সমস্যা হয় কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা জানান, আমরা মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা বসে ঠিক করে নিই কখন এবং কীভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হবে। নামাজের সময়গুলোতে সব প্রকার বাদ্য বাজনা বন্ধ রাখা হয় এবং নামাজ শেষে মসুল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করে পূজারীদের জন্য সুযোগ করে দেন। এটাই এখানে নিয়ম-যোগ করেন গোবিন্দ চন্দ্র সাহা।


দলগ্রাম কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল কান্তি রায় জানান, শ্রষ্ঠার আরাধানাই মূল লক্ষ্য। যাতে কারো কোনো সমস্যা না হয় এমন আলোচনা করেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয় এখানে।


পুরনো বাজার জামে মসজিদের সহকারী ইমাম মাওলনা শফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। উভয় ধর্মের লোকদের সম সুযোগ দিয়েই এখানে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়। তাই ধর্ম পালনে কারও কোনো সমস্যা হয় না।


লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এএফএম আলাউদ্দিন খান জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন নিদর্শন আসলেই বিরল। জেলার মানুষের ধর্মীয় সম্প্রীতি দেখে তিনি নিজেই অভিভূত বলে জানান।


বিবার্তা/জিন্নাতুল/পলাশ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com