পাপুলের আসনে এমপি হতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর দৌড়ঝাঁপ
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২১, ০৯:৪০
পাপুলের আসনে এমপি হতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর দৌড়ঝাঁপ
রায়পুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ঘুষ দেয়ার অপরাধে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তার আসনে সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন ১১ এপ্রিল। সম্ভাব্য উপ-নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় যাওয়া-আসা শুরু করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।


সম্প্রতি ইসি থেকে সংসদ পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ায় উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্ব স্ব দলীয় হাইকমান্ডেও যোগাযোগ শুরু করেছেন। দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট ফোরামে।


গত সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। ফলে এখন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বাসিন্দা ও রাজনীতিকরা আসনটির উপনির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।


এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপুলের আসন শূন্য ও সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে এলাকায় যাওয়া-আসা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও এর বাইরের রাজনীতিকরা। এরা আসনটিতে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এরমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন পরিচিত একাধিক নেতাও আছেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অন্তত একধিক নেতার অনুসারী আগাম প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ‘প্রিয় নেতার’ রঙিন ছবিসহ পোস্টার বানিয়ে তারা লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।


এদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল কবির জগলুল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন, রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইসমাইল খোকন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হারুনের রশীদ ও জেলা বিএনপি থেকে অব্যাহতি নেয়া টিটু ভুঁইয়ার পক্ষে দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা আলাদা ও বিক্ষিপ্তভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো হয়েছে ওই নেতাদের পোস্টার-ফেস্টুনও।


অন্যদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। যদিও এ সংখ্যা নগণ্য। গেল নির্বাচনেও তিনি এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। খায়ের ভূঁইয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।


এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এম আর মাসুদ ও নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মিঠুও এই আসনের এমপি হতে চান।


এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপি পদ শূন্য ও উপ-নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী এলাকায় আসা-যাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও করোনাকালে এলাকায় তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়নি। এ আসনে সম্ভাব্য উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে সম্প্রতি কিছু কম্বল দেয়া হয়। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুর উপজেলার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দলের ১০ নেতা এমপি পদে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে অনুসারীদের দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত নেতা। নির্বাচন এলেই তাদেরকে এলাকায় দেখা যায়। পরে তাদের দেখা যায় না।


উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরের চরমোহনা ইউপির সন্তান নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘রায়পুরের জনগণ বরাবরই উন্নয়নবঞ্চিত। এখন উপ-নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে আমি মনোনয়ন চাইব।’


রায়পুর উপজেলা আ'লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হারুনের রশীদ বলেন, ‘আগামীতে আমরা অপরাজনীতিমুক্ত, কালো টাকার মালিক ও জনবিচ্ছিন্ন কাউকে এমপি পদে দেখতে চাই না। পরীক্ষিত ও তৃণমূলে বসবাসকারী নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে আমার প্রত্যাশা। এ আসনে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও যোগ্যদের মধ্য থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। যিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করবেন, তাকেই এমপি হিসাবে চায়।’


লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘এমপি পাপুলের অনুপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। এখন উপ-নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসা সময়ের ব্যাপার। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।’


উল্লেখ্য-লক্ষ্মীপুর-২ আসন (রায়পুর-সদর একাংশ)। উপ-নির্বাচন ১১ এপ্রিল। ভোট হবে ইভিএম এ। মনোনয়ন দাখিল ১৮ মার্চ, যাচাই -বাচাই ১৯ মার্চ, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৪ মার্চ।


বিবার্তা/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com