ধর্ষকদের শাস্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের খোঁজ চান নাদেল
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০২
ধর্ষকদের শাস্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের খোঁজ চান নাদেল
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছাত্রাবাসে ধর্ষণকান্ডে ক্ষোভে উত্তাল সিলেট।


বিভিন্ন মহল থেকে ধর্ষকদের শাস্তির দাবি ওঠেছে।ইতিমধ্যে ধর্ষকদের গ্রেফতার করতে র‍্যাব-পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া এবং র‍্যাব-৯ এর কমান্ডার লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলামকে এ নির্দেশ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


এদিকে ধর্ষণের সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শাস্তি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। একইসঙ্গে এসব ছাত্রলীগ নেতাদের প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিতেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।


শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে শফিউল আলম নাদেল লেখেন-


শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রবাসে লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। ন্যাক্কারজনক পাশবিক এই ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ ও ব্যাথিত। খুব কষ্ট লাগছে যে, এম সি কলেজের পবিত্র ক্যাম্পাসে আমরা শিক্ষার্থী ছিলাম, সেই কলেজে এমন নির্মম জঘন্যতম অপরাধ সংগঠিত হলো।


যে ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমরা সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতাম সেই ছাত্রলীগের নাম এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে। এমন নিষ্ঠুর, নৃশংসতা কোনো শুভবোধসম্পন্ন মানুষ মেনে নিতে পারে না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এমসি কলেজ বারবার কেনো অপরাধের জন্য শিরোনাম হচ্ছে? কারা এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাঙ্গনের আলোকিত ধারাকে কালিমা লেপন করছে তাও খোঁজা জরুরি।


এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে যারা উৎসব করেছিল তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে একই ছাত্রাবাসে এমন অপরাধ করার সাহস পেতো না এই দুর্বৃত্তরা। অভ্যন্তরিণ কোন্দলে যারা নিজের সহকর্মীদের যারা বিভিন্ন সময় খুন করেছে। তাদের শাস্তি হলে এই অপরাধীরা এমন বিকৃত চিন্তাও করতে পারতো না। কলংকজনক এ ঘটনায় আমি লজ্জিত, মর্মাহত। অপরাধীদের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই।


একটি বিষয় বোধগম্য হচ্ছে না, যেখানে কলেজের শ্রেণিকার্যক্রম বন্ধ। সেখানে গুটিকয়েক জনের জন্য ছাত্রাবাস খোলা থাকে কি করে? কলেজ প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারেন না। ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এসব নিকৃষ্ঠ অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক ও প্রশ্রয়দানকারীদেরও খুঁজে বের করতে হবে। পূণ্যভূমি সিলেটের ললাটে এমন ঘৃণ্য কালিমা যারা লেপন করেছে তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। জয় হোক সুন্দরের। জয় হোক মানবতার।


প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ৬-৭ জন নেতাকর্মী। এরপর দুজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনায় শনিবার সকালে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দু-তিনজনের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় মামলা করেন নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী।


মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, রবিউল হাসান, তারিকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্কর। এদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র। তবে তারা সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।গণধর্ষণের ঘটনার পর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ।


বিবার্তা/খলিল/আবদাল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com