অনিয়ম রুখতে আঙুলের ছাপে সরকারি চাল
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:১৪
অনিয়ম রুখতে আঙুলের ছাপে সরকারি চাল
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম রুখতে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন।


ইউএনও রাকিবের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফল ‘ওএমএস দেবীদ্বার’ ওয়েবসাইট www.omsdebidwar.gov.bd। এ ওয়েবসাইটে উপকারভোগীর নাম, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, আঙুলের ছাপসহ ১৩ ধরনের তথ্য রয়েছে। এতে উপকারভোগীকে আসল-নকল যাচাই করে চাল দেওয়া হয়। একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার চাল উত্তোলন করতে না পারেন, সেটি দেখা হয়।


ওয়েবসাইটে প্রত্যেক উপকারভোগীর তথ্যের বিপরীতে যুক্ত করা হয়েছে তার আঙুলের ছাপ। উপকারভোগী তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, ডিজিটাল আইডি নম্বর দিয়ে ব্যবস্থাটিতে (সিস্টেম) প্রবেশ করামাত্রই তাঁর ছবিসহ যাবতীয় তথ্য প্রদর্শিত হয়। সবার ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো একটি আঙুলের ছাপ দিলে, তা মিললে ‘চাল উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে’, এমন ধন্যবাদ বার্তা দেখায়।


শুধু তাই নয়, উপকারভোগীর চাল উত্তোলনের তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার বা সার্ভারেও জমা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কারা চাল উত্তোলন করেছেন, কারা করেননি, তার তথ্য জানতে পারেন। ফলে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে না।


ইউএনও রাকিবে বলেন, অনেকের নামে কার্ড করা হয়েছে, তারা জানেন না। অথচ তাদের নামে বছরের পর বছর চাল তোলা হচ্ছে। ক্রমাগতভাবে যখন অভিযোগগুলো আসছিল, তখন ভাবলাম প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি ব্যবস্থা দাঁড় করাব। সেই চিন্তু থেকে এ ওয়েবসাইট তৈরি করি।


জানা গেছে, ইতিমধ্যে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় প্রথমবারের মতো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (আঙুলের ছাপ দিয়ে) ওএমএসের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে একজনের কার্ডের চাল আরেকজন নিতে পারবে না।



ইউএনও রাকিব বলেন, ব্যবস্থাটি তৈরির জন্য ডিলার ও উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সব কটি ইউনিয়নে ব্যবস্থাটি করা হবে। পুরো উপজেলার সবাইকে এর আওতায় আনব। ওয়েবসাইট আরো হালনাগাদ করব।


কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ওএমএসের চাল বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। একই পদ্ধতিতে সরকারের অন্যান্য সেবাও দেয়ার চেষ্টা করছি।


খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ বলেন, শুনে মনে হচ্ছে আমাদের সরবরাহে যে সমস্যা থাকে, এ ব্যবস্থায় তা অনেকাংশে কমবে। এটাকে আমরা দেশব্যাপী কাজে লাগাতে পারি।


দেশে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ১২৫টি। এ খাতে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৭ শতাংশ। তবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাই ও ভাতা দেয়া নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাল বিতরণে অনিয়ম রুখতে তথ্যপ্রযুক্তির যে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহার করে অনিয়ম দূর করা দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


বিবার্তা/আবদাল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com