আনোয়ারায় ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ভূমি মালিকদের হয়রানির অভিযোগ
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১১
আনোয়ারায় ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ভূমি মালিকদের হয়রানির অভিযোগ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের সংযোগ সড়ক নির্মাণে আনোয়ারা অংশে জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে নামে বে-নামে মামলা দিয়ে প্রকৃত ভূমি মালিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।


আনোয়ারা উপজেলায় ভূমি অধিগ্রহণে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মোটা অংকের কমিশন দাবি, অন্যথায় নামে বে-নামে মিথ্যা মামলা টুকে দিয়ে ভূমি মালিকদের টাকা প্রাপ্তিতে ব্যাপক হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক কমিশনবাজি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাতের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন, মো: হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী।


সংবাদ সম্মেলনে মো. হোসেন বলেন, আমার বাপ-দাদাসহ পূর্বপুরুষরা আনোয়ারা উপজেলার বেলচুড়া এলাকা ও বৈরাগ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের মালিক ছিলেন। আর.এস, বি.এস খতিয়ানমূলে এবং ওয়ারিশসূত্রে আমি মো. হোসেন সহ আমার নিকটাত্মীয়গণ এসব সম্পদের প্রকৃত মালিক।


তিনি বলেন, বর্তমানে এসব সম্পত্তি তাদের ভোগ দখলেও রয়েছে। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে সংযোগ সড়ক আমাদের জায়গার উপর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য এলএ মামলা নং ৩০/২০১৬/১৭ এর সূত্রে আমার পিতা- মৃত মনির আহমদ ও আমার চাচা মো. আমিন শরিফ সহ ওয়ারিশদের নামে ৩ ধারা, ৬ ধারা ও সর্বশেষ ৭ ধারার নোটিশ প্রাপ্ত হই। কিন্তু পাশের চাতরী গ্রামের জনৈক আবুল হোসেনের পালক পুত্র মো. নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছাত্রদল নেতা ক্যান্টিন ইকবাল, ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দিন বাবু, জামাল প্রকাশ বোয়ারা (বধির) জামালসহ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র মিলে আমাদের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।


এ চক্রটি প্রথমে আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন দাবি করেন। আমরা কমিশন দিতে রাজি না হওয়ায় তারা পটিয়ায় তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমাদের নানাভাবে হয়রানী শুরু করে।


এখানে উল্লেখ্য যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আছে, চূড়ান্ত ভাবে ৭ ধারা নোটিশ ইস্যুর পর কোনো মামলা চলে না। তারপরও এই চক্রটি চট্টগ্রাম জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করে আমাদের প্রাপ্য টাকা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করেছে। আমরা দীর্ঘদিন আমাদের প্রাপ্য টাকার জন্য চট্টগ্রাম এলএ অফিসে ধর্ণা দিলেও এই প্রতারক চক্রের অন্যায় চাপের কারেণ আমাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের টাকা এল এ অফিসের কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে পরিশোধ করেনি।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি বসে নেই, তারা পটিয়ায় তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে শুধু হয়রানী করছে তা নয়, তারা উল্টো আমাদের পরিবার এবং চট্টগ্রাম এল এ শাখার বিরুদ্ধে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের প্রাপ্য টাকা অন্যায়ভাবে এই চক্রকে প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।


শুধু আমাদের নয়, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারার বিভিন্ন নিরীহ মানুষকে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা প্রাপ্তিতে মোটা অংকের কমিশন দাবি করে চলেছে। এই চক্রের অন্যায় দাবি পূরণ না করলে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য বিভিন্ন লোকের বিরুদ্ধে নামে বে-নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারার কৃতি সন্তান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সরকারি সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে এ চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মো. নুরুল কবির রানা, মো. লোকমান, মো. আলী, রশিদা বেগম, সাদ্দাম হোসেন, সিরাজুল হক বাবু, মো. সাহাবুদ্দিন, মো. মামুন সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/জেহাদ/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com