পূজায় লামার বিশেষ আকর্ষণ ‘মহিষাসুর বধ’
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ০৮:০৩
পূজায় লামার বিশেষ আকর্ষণ ‘মহিষাসুর বধ’
লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির মণ্ডপে নির্মিত প্রতিমা: লামা প্রতিনিধি
নুরুল করিম আরমান, লামা
প্রিন্ট অ-অ+

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর ধরে কাশফুলের দোলা, ভোরের বাতাসে শিউলি ফুলের সুবাস। এসবই মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিতে শরতের ছোঁয়া লাগার কথা। এ ঋতুর অন্যতম আকর্ষণ হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদিয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠেছে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ।


এখন মন্দিরে মন্দিরে উচ্চারিত হচ্ছে চণ্ডীপাঠ। ১ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে দেবী পক্ষের শুরু হলেও মূলত শুক্রবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১১ অক্টোবর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে শারদীয় এই দুর্গোৎসব। শরতের শুভ্র আভায় মা দুর্গাকে ঢাক, কাঁসা আর শঙ্খ বাজিয়ে আরতি করে অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি আনতে আহবান জানাবেন, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।


বান্দরবানের লামা উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির প্রাঙ্গনে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে এ পূজার আয়োজন করে বৃহত্তর লামা সনাতনী সমাজ। পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়। উপজেলার ৮টি পূজা মন্ডপের মধ্যে প্রতিটি পূজা মণ্ডপেই চলছে সাজ-সাজ রব। গত বছরের চেয়ে এবারে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরো বেশি জোরদার করা হয়েছে। পুজোর দিনগুলোতে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় হরিমন্দির মণ্ডপে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রতিমা প্রদশর্নীর মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘মহিষাসুর বধ’।


গতবারের মত এবারও উপজেলায় ৮টি পূজামন্ডপেই দুর্গাৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলো হলো- লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজা মন্ডপ ও চাম্পাতলী লোকনাথ মন্দির মণ্ডপ, লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা হরি মন্দির মণ্ডপ, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা দূর্গা মন্দির মণ্ডপ, পূর্ব হায়দারনাশী সৎসঙ্গ মন্দির মণ্ডপ, বগাইছড়ি কমিউনিটি সেন্টারপাড়ার দূর্গা মন্দির মণ্ডপ ও পাগলীর আগা শ্রী শ্রী জগন্নাত ঋষি মন্দির, আজিজনগর ইউনিয়নের শ্রী শ্রী হরি মন্দির। এসব পূজামণ্ডপের মধ্যে ৬টি পূজামণ্ডপকে অতিগুরুত্বপূর্ণ ও ২টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি।


কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন কমিটি সূত্র জানায়, শুক্রবার শারদীয়া দূর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ব ও ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তরা দেবী বন্দনা করেছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শারদীয় দূর্গোৎসব একযোগে শুরু হয়। ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে লামা মাতামুহুরী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গোৎসব শেষ হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিমা তৈরি ও সাজ সজ্জার সঙ্গে মণ্ডপ সজ্জার কাজও শেষে এখন পুজা শুরু হয়েছে।


এ বছর লামা কেন্দ্রীয় মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন কক্সবাজারের মৃৎশিল্পী বাবুল ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরি, সাজ সজ্জাসহ মণ্ডপের সকল কাজ শেষে শুক্রবার থেকে পূজা শুরু হয়। গত ৩ মাস যাবত ধরে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।


লামা কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ বলেন, পুজোর দিনগুলোতে এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রতিমা প্রদশর্নীর মাধ্যমে ‘মহিষাসুর বধ’ প্রদর্শিত হবে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লামায় শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। আনন্দ উদ্দীপনার মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের জন্য প্রত্যেক পুজামন্ডপে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, মণ্ডপের প্রতিমা তৈরিসহ সব মিলিয়ে খরচ ১০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। পূজা উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ৫০০ কেজি চাউল ও বান্দরবান জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকবে বলেও জানান তিনি।


লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, পূজায় প্রতিটি মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি আনসার ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। অতিগুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।


বিবার্তা/আরমান/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com