যৌতুক দাবি, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুলের বিরুদ্ধে মামলা
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:০৫
যৌতুক দাবি, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুলের বিরুদ্ধে মামলা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মোটা অংকের যৌতুক চেয়ে না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে।


এ ঘটনায় স্ত্রী শীলা খানম বাদী হয়ে ইনামুলসহ তার ভাই মাহবুব আলম, ভাইয়ের স্ত্রী শার্মিলা বেগমকে আসামি করে মামলা করেছেন।


সোমবার (২১ অক্টোবর) আসামিরা গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের আবু জাফর মোল্যা কলেজে পড়ুয়া মেয়ে শীলা খানমকে এ বছরের ২৫ মে নানা ছলনায় বিয়ে করেন চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান।


মামলার বিবরণীতে বলা হয়, বিয়ের সময় ইনামুল হাসান শ্বশুরের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নগদ যৌতুক আদায় করেন। স্ত্রীকে ঘরে তুলে নেয়ার কিছুদিন পর ফের আরো দুই লাখ টাকা নগদ দাবি করেন ইনামুল হাসান। যৌতুকের টাকা আদায়ের জন্য তিনি স্ত্রী শীলাকে চাপ দিতে থাকেন। পরে ইনামুল, তার ভাই মাহবুব আলম, ও ভাইয়ের স্ত্রী শার্মিলা বেগম তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।


শীলা খানমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ঈদের আগে মেয়ে, মেয়ের বাবা এবং মেয়ের বড় বোন ইনামুলের বাড়িতে যান। এ সময় ইনামুলের বাবা গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘বউ বাড়ি এসেছে তাকে রেখে দাও। যা হবার হয়েছে।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ইতোপূর্বে সন্ত্রাসী কাজে অভিযুক্ত ইনামুল ও তার ভাই মাহবুব বাবাকে ঘর থেকে মারতে মারতে উঠানে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পরে মেয়ে, মেয়ের বাবা ও বোন ফিরে আসে।


এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় ইনামুল, তার ভাই মাহবুব মেয়ে পক্ষের কাছে মোটা অংকের টাকা, প্রাইভেট কারের দাবি করেন। তা না হলে তারা মেয়েকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মেয়েপক্ষ এই দাবিপূরণে অপারগতা দেখালে ছেলেপক্ষ আরো ক্ষুব্ধ হয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ।


এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ লোপাট, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দিতে উৎকোচ আদায়, টিআর-কাবিখা লুটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে।


এছাড়া গোপালপুর ও দিগনগর খেয়া ঘাটের ইজারার রাজস্ব আত্মসাৎ, ইউপি কার্যালয়ে মদ ও জুয়ার আসরের জন্য বখাটেদের কাছে কক্ষ ভাড়া দেয়া, অর্থের বিনিময়ে ভিজিডি কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত করছে ফরিদপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগ।


ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসব অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হবে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো পদে না থাকলেও ইনামুলের ভাই মাহবুব আলম, তার খালাতো ভাই আবুল হাসান স্থানীয় পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে অযাচিত হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন খাত থেকে উৎকোচ ও কমিশন আদায়ে কাজ করছেন। এসব অভিযোগও তদন্ত হচ্ছে।


বিবার্তা/তাওহীদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com