বিনা অপরাধে ২৫ দিন ধরে কারাগারে নয়ন
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:২১
বিনা অপরাধে ২৫ দিন ধরে কারাগারে নয়ন
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান বাবুল হোসেন নয়ন। স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজ থেকে চলতি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হয় নয়ন। ফলে পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি নয়নের।


মিথ্যা মামলায় (২১ অক্টোবর) ২৫ দিন ধরে টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দি রয়েছে বাবুল হোসেন নয়ন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ছেলের মুক্তি না মেলায় ভেঙে পড়েছে নয়নের অসহায় পরিবার। এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী বাসাইলের চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এর চারদিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরিবারেরে চাপে মেয়েটি নয়ন নামের এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল বলে জানান। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।


পুলিশ নয়নকে গ্রেফতার করে মেয়েটির মুখোমুখি করলে মেয়েটি গ্রেফতার হওয়া বাবুল হোসেন নয়নকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে। এ সময় নয়ন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ওই ছাত্রীকে চিনেনা এবং কক্সবাজারে যায়নি বলে জোর দাবি করতে থাকে। মেয়েটির অনড় অবস্থানের কারণে নয়নকে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠায়। আদালত পুলিশকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাবাদের সময়ও নয়ন বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করছিল। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করি। মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। পরে ওই হোটেলে দেয়া মোবাইল নম্বর ও সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৭ অক্টোবর ঘটনার আসল হোতা নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে ওই উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে। পরে গ্রেফতার হওয়া নয়ন মিয়া ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


এদিকে ঘটনার প্রকৃত আসামি গ্রেফতারের ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কলেজছাত্র বাবুল হোসেন নয়নের মুক্তি মেলেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্রুত মুক্তির দাবি করা হয়েছে।


নয়নের বাবা শাহজাহান আলী বলেন, প্রায় একমাস হয়ে যাচ্ছে আমার নির্দোষ ছেলেটা জেল খাটছে। কষ্ট কইরা আমার ছেলেটারে পড়াইতাছি। কিন্তু মিথ্যা মামলার কারণে এবার পরীক্ষাটাও দিতে পারলো না। ছেলের দ্রুত মুক্তি চান তিনি।


সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে আমরা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাবুল হোসেন নয়নের পরিবারের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন মঞ্জুর করবে। অন্যদিকে আদালত থেকে আমাদের কাছে থেকে কোনো প্রতিবেদন চাইলে আমরা বাবুল হোসেন নয়নের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিবো।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/তাওহীদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com