কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০৫
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
খুলনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

খুলনার রূপসায় কালের আবর্তে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সংকটের মুখে এ মৃৎ শিল্প। এক সময় এ গ্রামগুলো মৃৎ শিল্পের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।


সরেজমিনে উপজেলার আলাইপুর পালপাড়া এলাকা ঘুরে জানা যায়, গ্রামে নিয়োজিত মৃৎশিল্পীদের মধ্যে অধিকাংশ পাল সম্প্রদায়ের। প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় এবং আর্থ সামাজিক কারণে মৃৎশিল্পে শ্রেণিভুক্ত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা মৃৎশিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে। এখানে ৬০টি পরিবারের প্রায় ৪০০ জন লোক এ পেশার সাথে নিয়োজিত ছিল।


বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির তৈরি জিনিস পত্রের চাহিদা নেই। কারণ এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈজসপত্র। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মতো আগ্রহের সাথে নিচ্ছে না। সে কারণে অনেক পুরনো শিল্পীরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছে।


যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাটির জিনিসপত্র তার পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। ফলে এ পেশায় যারা জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎশিল্প তাদের জীবন যাপন একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দুঃখ কষ্টের মাঝে দিন কাটলে ও মৃৎশিল্পীরা এখনো স্বপ্ন দেখেন। কোনো একদিন আবারো কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। সেদিন হয়তো আবারো তাদের পরিবারে ফিরে আসবে সুখ-শান্তি। আর সেই সুদিনের অপেক্ষায় আজো দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।


আলাইপুর পালপাড়া গ্রামের (কুমার) চিত্ত পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয়। কিছু দিন আগে মৃৎ পণ্যগুলো নৌকায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় কম খরচে পাঠানো হোত কিন্তু নদীনালা না থাকায় এখন আর পাঠানো যায় না। যদি পরিবহনে পাঠান হয় তাহলে খরচ বেশি লাগে এবং মাটির জিনিস অনেক সময় ভেঙ্গে যায়। এ কারণে আমাদেরকে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। যার কারণে প্রায় ২ বছর হলো পেশা বদলে ফেলেছি।


অপরদিকে গোবিন্দ পাল বলেন, আমাদের তৈরিকৃত মৃৎ শিল্প ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে ও সুন্দর্য পাচ্ছে। তিনি বলেন সরকারি কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের সাহায্যর জন্য এগিয়ে আসে তাহলে মৃৎশিল্পকে বাঁচানো সম্ভব হবে।


বিবার্তা/রেজাউল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com