নেপাল দেশের খানাপিনা
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:০২
নেপাল দেশের খানাপিনা
হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী
প্রিন্ট অ-অ+

নেপাল আমাদের খুব কাছের দেশ। নেপালে ভ্রমণে যাওয়াটাও খুব কঠিন বা ব্যয়সাধ্য কিছু নয়। তবু আমরা সুযোগ পেলেই ইউরোপ-আমেরিকা যেতে যতটা হামলে পড়ি, প্রতিবেশী দেশগুলোতে (ভারত বাদে) যাওয়ার ব্যাপারে ততোটাই অনাগ্রহী। তাই এসব দেশ সম্বন্ধে আমাদের জানার পরিধিও খুব কম। নেপালের কথাই বলি। আমরা জানি না, নেপালীরা কি খায়, কি পরে আর কি করতে ভালোবাসে। সবকিছু এ সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। আজ কথা হবে নেপাল দেশের খানাপিনা নিয়ে।


নেপালীদের খাদ্যাভ্যাসের সাথে বেশিরভাগ বাংলাদেশীর একটা দারুণ মিল আছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের যেমন যত যা-ই খাক, পেটে ভাত না-পড়লে ''পেট ভরে না'', নেপালীদেরও ঠিক তা-ই। ফলে নেপালীদের দিনে দু'বার পেটভরে ভাত খাওয়া চাই-ই চাই। সাধারণত তারা সকালে একটু বেলা বাড়লে এবং পরেরবার সূর্য ডোবার আগে - দিনে এ দু'বার ভাত খায়। সাধারণত ডাল ও সব্জির তরকারি দিয়েই ভাত খাওয়া সারে তারা। কখনো-কখনো সাথে থাকে ফল ও সব্জির আচার।


অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও উঁচু এলাকায়, চাল যেখানে দুর্মূল্য, সেখানকার মানুষজন ভাতের বদলে ''ধিরু'' নামে এক ধরনের জাউ খায়, যা ভুট্টা অথবা বজরা দিয়ে তৈরী। যেসব এলাকায় প্রচুর গম পাওয়া যায় সেখানে লোকজন ভাতের পাশাপাশি আটার রুটি খায়।


সাধারণ নেপালীরা ঘরের মেঝেতে বসে যার-যার থালায় খায়। কোনো-কোনো শহুরে পরিবার যদিও আজকাল পশ্চিমা কেতায় ছুরি কাঁটাচামচ দিয়েও খানাপিনা করছে, তবে নেপালে হাত দিয়ে খাওয়াই দস্তুর।


নেপাল হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। হিন্দুরা নানা বর্ণে বিভক্ত ধর্মীয় গোষ্ঠী। তাই খানাপিনার ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে কিছুটা বিভিন্নতা আছে। যেমন উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা কঠোরভাবে নিরামিষাশী। তারা মদ পানও করে না। অন্য বর্ণের লোকেরা মদ পান করে, শূকরের মাংস খায়, এমনকি অনেকে গরুর মাংসও খায়।


কে কার সঙ্গে খেতে পারবে এবং কোথাকার খাবার খেতে পারবে বা পারবে না, সে ব্যাপারেও গোত্রীয় বিধিবিধান বহুকাল ধরে চলে আসছে। উঁচু জাতের লোকেরা সাধারণত অচেনা কারো পাকানো খাবার খেতে রাজি হন না।


তবে আধুনিকতার হাওয়ার তোড়ে আগের অনেক নিয়মই এখন ঢিলে হয়ে এসেছে। শহরে দলে-দলে বিদেশী পর্যটক আসছে, তাদের জন্য মোড়ে-মোড়ে গড়ে উঠছে রেস্তোরাঁ। পর্যটননির্ভর অর্থনীতি কি আর পুরনো নিয়ম মেনে চলে!


বিয়ে কিংবা অন্য কোনো উপলক্ষে খানাপিনার আয়োজনও বাংলাদেশের মতোই। অনেক লোক সেখানে আমন্ত্রিত হয়। প্রথা হলো, অতিথিদের পাটিতে বসিয়ে খেতে দেয়া হয়। তবে একেক গোত্রের লোকজন একেক সারিতে বসে। খাদ্য পরিবেশন করা হয় কলাপাতা বা অন্য কোনো গাছের পাতায়, যাতে খাওয়াশেষে পাতাটি ফেলে দেয়া যায়। অন্য অনেক পুরনো নিয়মের মতো গাছের পাতায় খাদ্য পরিবেশনের নিয়মটিও, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, ধীরে-ধীরে আর থাকছে না। তার স্থান নিচ্ছে বাসন-কোসন থালাবাটি।


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com