সাগরে ৪৯ দিন যেভাবে ভেসে ছিলেন আদিলাং
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০৫
সাগরে ৪৯ দিন যেভাবে ভেসে ছিলেন আদিলাং
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ইন্দোনেশিয়ার ১৮ বছর বছর বয়সী তরুণ আলদি নোবেল আদিলাং গভীর সাগরে ভেসে ছিলেন টানা ৪৯ দিন। এরপর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তিনি বেঁচে ছিলেন সমুদ্রের নোনাপানি ও লাফিয়ে ওঠা মাছ খেয়ে।


মাছ ধরার জন্য কাঠ দিয়ে তৈরি ভেলায় থাকা অবস্থায় আদিলাং ঝড়ে পড়ে ভেসে গিয়েছিলেন সাগরে।


ইন্দোনেশিয়ায় গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার স্থানীয় একটি পদ্ধতি হল ‘রমপং’। এই পদ্ধতিতে কাঠ দিয়ে একটি ভেলা তৈরি করার পর তার উপর কুঁড়ে ঘরের মতো একটি ছোট কক্ষ বানানো হয়। সেই কক্ষে একজন বা দু'জন মানুষ থাকতে পারেন।


রমপং পদ্ধতিতে মাছ ধরতে ব্যবহার করা হয় আলোর ফাঁদ। সাধারণত রাতে এই ফাঁদ কাজে লাগে। ঢেউয়ের তালে তালে ভেসে থাকা রমপংয়ে জ্বলে আলোর ফাঁদ। আর এতেই মাছ লাফিয়ে ওঠে ওই ভেলার ওপর। সুলাবেসি দ্বীপের বাসিন্দা আদিলাংয়ের কাজ ছিল রমপং বা ভেলায় আলো জ্বালানো।


আলদি নোবেল আদিলাং


ভেলাটি ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে সাগরের ১২৫ কিলোমিটার গভীরে বাঁধা ছিল। এ ধরণের ভেলায় কোনো ইঞ্জিন বা বৈঠা ব্যবহার করা হয় না। অন্য নৌযান দিয়ে ভেলাটিকে গভীর সমুদ্রে নেয়া হয়। হঠাৎ ঝড়ে দড়ি ছিঁড়ে ভেলাটি সমুদ্রের কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ অঞ্চল গুয়ামের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।


৩১ অগাস্ট জাপানগামী পানামার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আরপিগিও আদিলাংকে উদ্ধার করে গুয়াম কোস্টগার্ডের সাথে যোগাযোগ করে। গুয়াম কোস্টগার্ডের তাকে জাপানে নিয়ে যেতে বললে জাহাজের কর্মকর্তা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। ওই জাহাজে আদিলাং গত ৬ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছান।


এর দু'দিন পর ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস আদিলাংকে জাপান থেকে বিমানে করে নিজ দেশে পাঠায়। তিনি এখন ইন্দোনেশিয়ায় তার পরিবারের সাথে আছেন।


গত ১৪ জুলাই সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় হয়। সেই ঝড়ে ভেলাটির দড়ি ছিঁড়ে ভেসে যায়। সাগরে ৪৯ দিন তার কেটেছে শঙ্কায়। সাগরে ভেসে অসহায় অবস্থায় আদিলাং চিৎকার করে কাঁদত।


আদিলাংয়ের তাঁর সঙ্গে থাকা পানি ও খাবার ফুরিয়ে যায়। কারণ ভেলায় নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে খাবার পৌঁছে দেয়া হতো। এর ফলে তীব্র খাবার সংকটে পড়া আলদিকে সমুদ্রের নোনা পানিই পান করতে হয়েছে। আর আমিষ হিসেবে খেতেন রমপংয়ে লাফিয়ে ওঠা মাছ।


পরিবারের সঙ্গে সাদা টিশার্ট পরা আদিলাং


জাপানে ইন্দোনেশিয়ার এক কূটনীতিক ফাজার ফেরদৌস জাকার্তা পোস্টকে বলেছেন, সাগরে ভেসে থাকার সময় আদিলাং মৃত্যুভয়ে ভীত থাকতেন এবং বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করতেন। আলদি দেখতে পেতেন যে, বড় জাহাজ সমুদ্রে যাচ্ছে। তিনি জাহাজ দেখলেই চিৎকার করে সাহায্য চাইতেন। ১০টিরও বেশি জাহাজ তার ভেলার পাশ দিয়ে গেছে। কিন্তু জাহাজগুলো থামেনি বা তাকে হয়তো দেখতে পায়নি।


আদিলাংয়ের মা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছে বলে তার কর্মস্থল থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছিল। ফলে তারা তখন শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতেন। তারা সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com